সানি লিওনের বলিউডে আসার নেপথ্যের গল্প শোনালেন মহেশ ভাট
বিতর্ক থেকে বড় পর্দা, সানি লিওনের বলিউড সফরের শুরুটা ছিল একেবারেই আলাদা
আজ Sunny Leone বলিউডের পরিচিত মুখ। একাধিক সিনেমা, Special Song, Reality Show এবং OTT Project-এর মাধ্যমে তিনি নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। তবে এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। সম্প্রতি পরিচালক-প্রযোজক মহেশ ভাট জানিয়েছেন, কীভাবে সানির বলিউডে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছিল এবং কেন তাঁকে 'জিসম ২' ছবির জন্য বেছে নেওয়া হয়।
মহেশ ভাটের কথায়, সেই সময় সানিকে নিয়ে বিতর্ক যেমন ছিল, তেমনই ছিল মানুষের প্রবল কৌতূহল। প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন জগত থেকে মূলধারার হিন্দি সিনেমায় আসার সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু সব বিতর্কের মাঝেও তিনি সানির মধ্যে একজন সম্ভাবনাময় অভিনেত্রীকে দেখতে পেরেছিলেন।
‘বিগ বস ৫’ থেকেই বদলে যায় সবকিছু
ঘটনার শুরু জনপ্রিয় Reality Show 'বিগ বস ৫' থেকে। সেখানে Wild Card Contestant হিসেবে যোগ দেওয়ার পর রাতারাতি খবরের শিরোনামে চলে আসেন সানি লিওন। তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে দেশজুড়ে নানা ধরনের বিতর্ক তৈরি হলেও দর্শকদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
ঠিক সেই সময় ভায়াকম১৮-এর তৎকালীন কর্তা রাজ নায়ক মহেশ ভাটকে পরামর্শ দেন, তিনি যেন 'বিগ বস'-এর সেটে গিয়ে সানির সঙ্গে একবার দেখা করেন। সাহসী বিষয়বস্তু ও ভিন্নধর্মী Casting-এর জন্য ভাট পরিবারের পরিচিতি ছিল আগেই। সেই পরামর্শ মেনেই সানির সঙ্গে দেখা করতে যান মহেশ ভাট।
প্রথম সাক্ষাৎেই বদলে যায় সিদ্ধান্ত
সাক্ষাৎকারে মহেশ ভাট জানান, প্রথম আলাপের পরই তাঁর মনে হয়েছিল, সানির মধ্যে শুধুই জনপ্রিয়তা নয়, অভিনয় করারও যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি মনে করেন, একজন শিল্পীকে শুধুমাত্র তাঁর অতীত পরিচয় দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি মেয়ে পূজা ভাট-এর কাছে 'জিসম ২' ছবির জন্য সানির নাম প্রস্তাব করেন।
পূজা ভাটও সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেন। এরপর শুরু হয় ছবির কাজ এবং ২০১২ সালে মুক্তি পায় Jism 2, যার মাধ্যমে বলিউডে আনুষ্ঠানিক অভিষেক ঘটে সানি লিওনের।
সিনেমা নিয়ে প্রত্যাশা আর বাস্তবতার ফারাক
মুক্তির পর Jism 2 বক্স অফিসে ভালো ব্যবসা করলেও ছবিটি প্রত্যাশামতো প্রশংসা পায়নি। মহেশ ভাটের মতে, এর অন্যতম কারণ ছিল দর্শকদের পূর্বধারণা। অনেকেই সানিকে তাঁর অতীত পরিচয়ের ভিত্তিতে বিচার করেছিলেন। ফলে ছবিতে একটি আবেগঘন চরিত্রে তাঁকে দেখানো হলেও দর্শকদের একাংশ সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের কনটেন্ট আশা করেছিলেন।
এই প্রত্যাশা এবং ছবির গল্পের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হওয়ায় সমালোচনাও কম হয়নি। তবে মহেশ ভাটের বিশ্বাস, একজন নতুন অভিনেত্রী হিসেবে সানি নিজের দায়িত্ব যথাসাধ্য পালন করেছিলেন।
প্রথম সপ্তাহেই নজরকাড়া সাফল্য
ছবিটি মুক্তির পর প্রথম তিন দিনেই ভালো ব্যবসা করে। মহেশ ভাটের দাবি, সেই সময় সানি লিওনের জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। Internet Search Trend-এও তিনি ভারতের অন্যতম বেশি খোঁজা ব্যক্তিত্বদের তালিকায় ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর উপস্থিতি সিনেমা নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছিল।
অনেক দর্শক শুধুমাত্র সানিকে বড় পর্দায় দেখার জন্যই সিনেমা হলে গিয়েছিলেন। ফলে শুরুতেই ছবিটি ভালো Opening পায় এবং Box Office-এ ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
আরও আগে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনাও ছিল
মহেশ ভাটের পাশাপাশি পূজা ভাটও আগেই জানিয়েছিলেন, শুধু 'জিসম ২' নয়, প্রথম 'জিসম' ছবির সময়ও সানি লিওনের নাম বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক পেশাগত চুক্তির কারণে তখন তাঁকে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে সেই সুযোগ আসে Jism 2-এর মাধ্যমে।
এরপর ধীরে ধীরে মূলধারার বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করেন সানি। শুধু সিনেমা নয়, বিভিন্ন Reality Show, Television Appearance এবং Digital Platform-এ কাজ করে তিনি প্রমাণ করেন যে একজন শিল্পীর পরিচয় শুধুমাত্র তাঁর অতীত দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না।
নতুন দৃষ্টিভঙ্গির কথা বললেন মহেশ ভাট
মহেশ ভাটের মতে, প্রতিভাকে সুযোগ দেওয়াই একজন নির্মাতার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। কোনও শিল্পীর অতীত নিয়ে বিচার না করে তাঁর বর্তমান দক্ষতা এবং সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সানি লিওনের ক্ষেত্রে তিনি ঠিক সেই সিদ্ধান্তই নিয়েছিলেন। সময়ের সঙ্গে সেই সিদ্ধান্ত কতটা সঠিক ছিল, তা আজ তাঁর বলিউড ক্যারিয়ারের দিকে তাকালেই বোঝা যায়।