কর্মজীবী মায়েদের স্বস্তি: কর্মক্ষেত্রে ডে-কেয়ার সেন্টার বাধ্যতামূলক করার পথে কর্পোরেট সংস্থাগুলি
কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার্থে কর্পোরেট উদ্যোগ
দেশের কর্মজীবী মায়েদের দীর্ঘদিনের দাবি ও পেশাগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করতে এবার বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কর্পোরেট ও করপোরেট বহির্ভূত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। অফিসে কাজ করার পাশাপাশি সন্তানদের নিরাপদ দেখভালের বিষয়টি নিশ্চিত করতে কর্মক্ষেত্রে ডে-কেয়ার সেন্টার বা শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপন বাধ্যতামূলক করার পথে হাঁটছে একাধিক সংস্থা। কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ আরও সুদৃঢ় করতে এই যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সন্তান লালন-পালন করা কর্মজীবী মায়েদের জন্য প্রায়শই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় সন্তানকে সামলানোর সঠিক ব্যবস্থার অভাবে অনেক দক্ষ নারী কর্মীকে মাঝপথেই চাকরি ছাড়তে বাধ্য হতে হয়। এই ‘মাদারহুড পেনাল্টি’ বা মাতৃত্বজনিত পেশাগত ক্ষতি দূর করতে এবং অফিসে মায়েদের মানসিক চাপ কমাতে করপোরেট অফিসগুলোতে ডে-কেয়ার সুবিধা চালুর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে মায়েদের আর অফিসের কাজের ফাঁকে সন্তানের নিরাপত্তার কথা ভেবে দুশ্চিন্তা করতে হবে না।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: আইনগত বাধ্যবাধকতা এবং প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ইতিবাচক কাজের পরিবেশ গড়ে তুলতে শীর্ষস্থানীয় বহু আইটি ও করপোরেট প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব ক্যাম্পাসে বা কাছাকাছি এলাকায় বিশ্বমানের ডে-কেয়ার সেন্টার গড়ে তুলছে, যা নারী কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী হতে সাহায্য করছে।
- কর্মজীবী মায়েদের কাজের চাপ কমাতে অফিস চত্বরে ডে-কেয়ার সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
- সন্তান নিরাপদ পরিবেশে থাকার কারণে মায়েদের কর্মক্ষমতা ও কাজের মনোযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- মাতৃত্বের ছুটির পর মায়েদের চাকরিতে ফিরে আসা এবং ধরে রাখা সহজ হচ্ছে।
- কর্পোরেট খাতে জেন্ডার ডাইভার্সিটি বা জেন্ডার সাম্য বজায় রাখতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর।
কর্মক্ষেত্রে ডে-কেয়ার সেন্টারের দীর্ঘমেয়াদী সুফল
কর্মক্ষেত্রে ডে-কেয়ার সেন্টার বাধ্যতামূলক বা ব্যাপকভাবে চালুর ফলে শুধু মায়েদের ব্যক্তিগত সুবিধাই হচ্ছে না, বরং এর সামগ্রিক ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতার ওপর। যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানে ইন-হাউজ ডে-কেয়ার বা শিশু পরিচর্যার ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে নারী কর্মীদের উপস্থিতি ও কাজের মান তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা গেছে। কর্মীরা যখন নিশ্চিন্ত মনে অফিসের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তখন তাদের কাজের মানও উন্নত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে কর্পোরেট পলিসির একটি অপরিহার্য অংশ হতে চলেছে এই ডে-কেয়ার সুবিধা। নারীদের কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখতে এবং কর্মক্ষেত্রে জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা করতে এই ধরনের উদ্যোগ শুধু আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং একটি সুস্থ ও মানবিক কর্ম সংস্কৃতির প্রকাশ। এর মাধ্যমে আগামী দিনে কর্পোরেট ক্ষেত্রে আরও বেশি সংখ্যক নারী নেতৃত্ব ও সফল কর্মীর উত্থান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।