ডিপফেক (Deepfake) প্রযুক্তি: আপনার ছবি ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে না তো ভুয়ো ভিডিও?
ডিপফেক কী এবং কেন উদ্বেগ বাড়ছে?
Artificial Intelligence বা AI প্রযুক্তির সাহায্যে কোনো ব্যক্তির মুখ, কণ্ঠস্বর বা ছবি ব্যবহার করে বাস্তবের মতো দেখতে ভুয়ো ছবি ও ভিডিও তৈরি করা সম্ভব। এই ধরনের কনটেন্টকে সাধারণভাবে Deepfake বলা হয়। প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে ব্যক্তিগত পরিচয় ও সুনামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
আপনার ছবি কীভাবে অপব্যবহার হতে পারে?
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে থাকা ছবি বা ভিডিও কেউ ডাউনলোড করে AI Tool-এর মাধ্যমে পরিবর্তন করার চেষ্টা করতে পারে। বিশেষ করে পরিষ্কার মুখের ছবি বেশি ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় Public Profile-এ অতিরিক্ত ব্যক্তিগত ছবি শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
ভুয়ো ভিডিও চেনার কিছু লক্ষণ
কোনো ভিডিওতে মুখের অভিব্যক্তি ও কণ্ঠের মধ্যে অসঙ্গতি, অস্বাভাবিক ঠোঁটের নড়াচড়া, চোখের পলক, আলো-ছায়ার পার্থক্য বা অস্বাভাবিক Image Quality দেখা গেলে সেটি ভালোভাবে যাচাই করুন। তবে AI প্রযুক্তি দ্রুত উন্নত হওয়ায় শুধু ভিডিও দেখে সবসময় Deepfake শনাক্ত করা সম্ভব নাও হতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্রাইভেসি সেটিংস ঠিক রাখুন
সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের Privacy Settings পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ব্যক্তিগত ছবি Public রাখবেন না। অপরিচিত ব্যক্তির Friend বা Follow Request গ্রহণের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকুন।
ভুয়ো ভিডিও দেখলে কী করবেন?
কোনো ভিডিও আপনার ছবি ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে বলে সন্দেহ হলে সেটি অন্যদের কাছে Forward বা Share না করে প্রথমে তথ্য যাচাই করুন। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট Social Media Platform-এ Report করুন এবং গুরুতর অপব্যবহারের ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষের সাহায্য নিন।
- সোশ্যাল মিডিয়ায় অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত ছবি Public রাখবেন না।
- Account Privacy Settings নিয়মিত পরীক্ষা করুন।
- সন্দেহজনক Deepfake Video দেখলে যাচাই ছাড়া Share করবেন না।
- অচেনা Account বা সন্দেহজনক Link থেকে সতর্ক থাকুন।
- নিজের ছবি বা পরিচয় অপব্যবহারের সন্দেহ হলে Platform-এ Report করুন।
- গুরুতর ক্ষেত্রে Cyber Crime কর্তৃপক্ষের সাহায্য নিন।
AI যুগে নিজের ডিজিটাল পরিচয় সুরক্ষিত রাখুন
Deepfake প্রযুক্তি সবসময় ক্ষতিকর নয়, তবে এর অপব্যবহার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই অনলাইনে ছবি শেয়ার করার সময় সচেতন থাকা, Privacy Settings ব্যবহার করা এবং সন্দেহজনক কনটেন্ট যাচাই না করে বিশ্বাস বা প্রচার না করাই নিরাপদ।