Honda বাইকের Resale Value কেমন? কোন মডেল ভবিষ্যতে বেশি দাম পাবে
হোন্ডা বাইকের রিসেল ভ্যালু কেমন থাকে?
মোটরসাইকেল কেনার সময় বর্তমান দামের পাশাপাশি এর ভবিষ্যত বা সেকেন্ড হ্যান্ড রিসেল ভ্যালু (Resale Value) কত হবে, তা ভেবে নেওয়া অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ। সেকেন্ড হ্যান্ড বা ব্যবহৃত বাইকের বাজারে হোন্ডা (Honda) ব্র্যান্ডের রয়েছে দারুণ সুখ্যাতি এবং ব্যাপক চাহিদা। জাপানি ইঞ্জিনের দীর্ঘস্থায়িত্ব, কম মেইনটেন্যান্স খরচ এবং স্পেয়ার পার্টসের সহজলভ্যতার কারণে পুরনো হোন্ডা বাইক কেনার জন্য ক্রেতারা সবসময় মুখিয়ে থাকেন। ফলে অন্যান্য অনেক ব্র্যান্ডের তুলনায় হোন্ডার বাইকগুলো খুব দ্রুত এবং ভালো দামে বিক্রি করা সম্ভব হয়।
সাধারণত সঠিক যত্ন এবং নিয়মিত সার্ভিসিং করা থাকলে ভালো কন্ডিশনের একটি হোন্ডা বাইক ৩ বছর ব্যবহারের পরেও এর মূল মূল্যের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাজারমূল্য ধরে রাখতে পারে। ক্রেতাদের মনে হোন্ডার ইঞ্জিনের দীর্ঘমেয়াদি আস্থার জায়গাটি শক্ত থাকায় সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটেও এর দাম খুব একটা বেশি কমে যায় না। তবে বাইকের বডি কন্ডিশন, ইঞ্জিন সাউন্ড এবং ট্যাক্স-টোকেন বা পেপার্স কতটা আপডেট রয়েছে, তার ওপর প্রকৃত দাম নির্ভর করে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: বাজারে যে মডেলগুলোর দৈনন্দিন যাতায়াত বা কমিউটিংয়ে চাহিদা সবচেয়ে বেশি, সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটেও সেই মডেলগুলোর ডিপ্রিশিয়েশন বা মূল্যহ্রাস সবচেয়ে কম হয়।
- উচ্চ চাহিদা ও দ্রুত বিক্রি: সেকেন্ড হ্যান্ড বাইকের তালিকায় হোন্ডা নাম দেখলেই ক্রেতারা কম সময়ে সিদ্ধান্ত নেন, ফলে দীর্ঘকাল লিস্টিংয়ে আটকে থাকে না।
- ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব: হোন্ডার রিফাইন্ড ইঞ্জিন সহজে সহজে বসে যায় না, তাই সহজে পুরোনো হলেও পারফরম্যান্স ভালো থাকে।
- স্বল্প রক্ষণাবেক্ষণ: কম খরচ ও সহজে পার্টস পাওয়ায় সেকেন্ড হ্যান্ড ক্রেতাদের কাছে হোন্ডার গ্রহণযোগ্যতা সবসময় তুঙ্গে।
- রিসেল ভ্যালু ধরে রাখার হার: ৩ বছর ব্যবহারের পর সাধারণত ৭০-৭৮% পর্যন্ত মূল্য ফেরত পাওয়া যায়।
ভবিষ্যতে কোন মডেলগুলো সবচেয়ে বেশি দাম পেতে পারে?
সব হোন্ডা মডেলের রিসেল ভ্যালু একরকম হয় না। নির্দিষ্ট কিছু কমিউটার ও জনপ্রিয় মডেল ভবিষ্যতে বাজারে বিক্রির সময় সবচেয়ে বেশি দাম নিশ্চিত করতে পারে:
- Honda Shine 125 & SP 125: ১২৫ সিসি কমিউটার সেগমেন্টের এই দুটি মডেলের চাহিদা বাজারে সবসময় এক নম্বরে থাকে, তাই ভবিষ্যতে এদের রিসেল ভ্যালু সবচেয়ে বেশি পাওয়া যাবে।
- Honda Unicorn 150/160: লং লাস্টিং ইঞ্জিন এবং আরামদায়ক রাইডিংয়ের জন্য ইউনিকর্নের পুরনো গাড়ির কদর সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটে সবসময় প্রবল।
- Honda CB350 / Highness: প্রিমিয়াম রেট্রো ক্রুজার সেগমেন্টে এই বাইকগুলোর ভক্তশ্রেণী আলাদা হওয়ায় ভালো মেইন্টেনেন্সে বেশ চড়া দাম পাওয়া সম্ভব।
রিসেল ভ্যালু বাড়ানোর সহজ উপায়
আপনার বাইকটি ভবিষ্যতে বিক্রির সময় যাতে সর্বোচ্চ দাম পায়, সেজন্য সবসময় অফিশিয়াল সার্ভিস সেন্টার থেকে নিয়মিত সার্ভিসিং করান এবং সার্ভিস বুকলেট আপডেট রাখুন। এছাড়া বাইকের বডি স্ক্র্যাচমুক্ত রাখা, জেনুইন পার্টস ব্যবহার করা এবং বৈধ পেপার্স বা রেজিস্ট্রেশন ঠিক রাখা ভালো দাম পাওয়ার মূল চাবিকাঠি। সঠিক যত্ন আপনার শখের বাহনকে ভবিষ্যতে প্রফিটবল বা কম লোকসানের মডেলে পরিণত করবে।