WhatsApp-এ মেসেজ পাঠানোর পর সেটি অন্য ফোনে যেভাবে পৌঁছায়, ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং ও এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের ঐতিহাসিক যাত্রা

WhatsApp-এ মেসেজ পাঠানোর পর সেটি অন্য ফোনে যেভাবে পৌঁছায়, ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং ও এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের ঐতিহাসিক যাত্রা

হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজিং প্রযুক্তির ইতিহাস ও ইনস্ট্যান্ট যোগাযোগের সূচনা

হাতে থাকা স্মার্টফোনে টাইপ করে সেন্ড বোতামে চাপ দেওয়ার সাথে সাথেই চোখের পলকে পৃথিবীর অপর প্রান্তে থাকা বন্ধুর ফোনে মেসেজ পৌঁছে যাওয়ার জাদুকরী মাধ্যম হলো হোয়াটসঅ্যাপ বা ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং (WhatsApp and Instant Messaging)। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ডেটা প্যাকেট আকারে টেক্সট, ছবি ও ভিডিও সার্ভারের মধ্য দিয়ে অতি দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার এই অভাবনীয় প্রযুক্তি একদিনে তৈরি হয়নি। মানুষের দীর্ঘদিনের তারহীন বা তারযুক্ত মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে একে অপরের সাথে যোগাযোগের সাধনা এবং কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং ও ক্রিপ্টোগ্রাফির অভূতপূর্ব অগ্রগতির হাত ধরেই আধুনিক চ্যাট অ্যাপগুলোর জন্ম হয়েছিল। বর্তমান যুগে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং গ্লোবাল যোগাযোগের প্রতিটি ক্ষেত্রে এই মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা অপরিসীম। পকেটে থাকা ছোট একটি ডিভাইসের সাহায্যে মুহূর্তের মধ্যে প্রিয়জনের সাথে যোগাযোগের এই সুবিধা মানব সভ্যতাকে সম্পূর্ণ নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এর নেপথ্যে কাজ করেছে দীর্ঘ কয়েক দশকের নিরলস প্রোটোকল ডিজাইন এবং ক্লাউড সার্ভার রাউটিং গবেষণা।

ইনস্ট্যান্ট মেসেজিংয়ের আদি ইতিহাস শুরু হয়েছিল কম্পিউটারভিত্তিক আইআরসি (IRC) এবং এআইএম (AIM)-এর হাত দিয়ে, আর ২০০৯ সালে জ্যান কুম (Jan Koum) ও ব্রায়ান অ্যাক্টন (Brian Acton)-এর হাতে প্রতিষ্ঠিত হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মোবাইল চ্যাটিংয়ের আধুনিক বিপ্লব ঘটেছিল। যখন আমরা হোয়াটসঅ্যাপে কাউকে মেসেজ পাঠাই, তখন আমাদের ফোন সেই টেক্সটকে ইন্টারনেট বা ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে এনক্রিপ্ট করে হোয়াটসঅ্যাপের মূল ক্লাউড সার্ভারে পাঠায়; সার্ভার সাথে সাথে চেক করে দেখে প্রাপক অনলাইন আছে কি না। প্রাপক অনলাইনে থাকলে সার্ভার তৎক্ষণাৎ সেই মেসেজ তার ফোনে পৌঁছে দেয়, আর সে অফলাইনে থাকলে সার্ভারে সুরক্ষিত থাকে এবং অনলাইনে আসার সাথে সাথেই পৌঁছে যায়। ২০১৪ সালে প্রবর্তিত সিগন্যাল প্রোটোকলভিত্তিক 'এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন' প্রযুক্তির কারণে প্রেরক ও প্রাপক ছাড়া মাঝপথে অন্য কেউ বা স্বয়ং হোয়াটসঅ্যাপ কোম্পানিও সেই মেসেজ পড়তে পারে না।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ২০০৯ সালে হোয়াটসঅ্যাপের আত্মপ্রকাশ এবং পরবর্তীতে ২০১৪ সালে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন প্রোটোকল চালুর মাধ্যমে মোবাইল ইনস্ট্যান্ট মেসেজিংয়ের ক্ষেত্রে এক নিরাপদ ও বিপ্লবাত্মক যুগের সূচনা হয়েছিল।

  • প্রাথমিক আমলের মোবাইল যোগাযোগ মূলত এসএমএস (SMS) নির্ভর ছিল, যেখানে প্রতিটি অক্ষরের জন্য আলাদা খরচ হতো এবং ছবি বা বড় ফাইল পাঠানো যেত না।
  • বিংশ শতকের শেষের দিকে এবং একবিংশ শতকের শুরুতে ইন্টারনেটের প্রসারের ফলে ইয়াহু ও এমএসএন মেসেঞ্জারের মতো ডেস্কটপ ভিত্তিক চ্যাট ব্যবস্থার প্রচলন শুরু হয়েছিল।
  • আধুনিক যুগে এসে মাল্টি-ডিভাইস সিঙ্ক, রিয়েল-টাইম ভয়েস/ভিডিও কল এবং ক্লাউড-বেসড ডেটা রাউটিংয়ের ছোঁয়ায় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ অত্যন্ত দ্রুত ও নিরাপদ হয়েছে।

আধুনিক যুগে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজিং প্রযুক্তির রূপান্তর ও প্রভাব

টাকা খরচ হওয়া ধীরগতির এসএমএসের সেই আদি দিনগুলো থেকে শুরু করে আজকের আল্ট্রা-সিকিওর এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড ইনস্ট্যান্ট চ্যাট—প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আমাদের পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যম আজ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ও সুরক্ষিত হয়েছে। দূরত্বের বাধাকে পুরোপুরি মুছে ফেলার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির অবদান সবচেয়ে বেশি। সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে আধুনিক ডিজিটাল যোগাযোগকে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে এই প্রযুক্তি সামাজিক সম্পর্ক এবং ব্যবসায়িক লেনদেনে অভাবনীয় গতি এনে দিয়েছে। ব্যক্তিগত চ্যাট, গ্রুপ কনভার্সেশন কিংবা প্রফেশনাল যোগাযোগ—সবক্ষেত্রেই এর গভীর প্রভাব লক্ষ করা যায়।

সংক্ষেপে, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইনস্ট্যান্ট মেসেজিংয়ের আবিষ্কার ইন্টারনেট প্রোটোকল ও এনক্রিপশনের সঠিক মেলবন্ধন ঘটিয়ে পুরো পৃথিবীকে একটি চ্যাট উইন্ডোতে নিয়ে এসেছে। বিজ্ঞানীদের সেই সুদীর্ঘ সাধনা ও নেটওয়ার্ক প্রকৌশল ইতিহাসের পাতায় চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আগামী দিনের প্রযুক্তির উন্নয়নেও এই দ্রুতগতির মেসেজিং ব্যবস্থা এক প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে যাবে।