‘ভিআইপি দেহ’ আসছে বার্তা কেন? আর জি কর কাণ্ডে পানিহাটি শ্মশান নিয়ে নতুন প্রশ্ন

‘ভিআইপি দেহ’ আসছে বার্তা কেন? আর জি কর কাণ্ডে পানিহাটি শ্মশান নিয়ে নতুন প্রশ্ন

‘ভিআইপি দেহ’ আসছে, বার্তা শ্মশানে—আর জি কর কাণ্ডে ফের পানিহাটিতে নজর

আর জি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্তে পানিহাটি শ্মশানকে ঘিরে ওঠা প্রশ্ন ফের সামনে এসেছে। ‘ভিআইপি দেহ’ আসছে—এই ধরনের বার্তা শ্মশানে পৌঁছেছিল বলে যে দাবি সামনে এসেছে, তা ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে খোঁজখবর। ৯ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ, দেহ সৎকারের প্রক্রিয়া এবং সেই সময়কার প্রশাসনিক তৎপরতা এখন তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে।

ঘটনার প্রায় দুই বছর পর পানিহাটি শ্মশানে সিবিআইয়ের বিশেষ দল পৌঁছে একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখেছে। শ্মশানের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি ৯ আগস্টের রেজিস্টার এবং সিসিটিভি ফুটেজও পরীক্ষা করা হয়েছে। তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে, কীভাবে এবং কার নির্দেশে ওই সময়ে সৎকারের প্রক্রিয়া এগিয়েছিল।

পানিহাটি শ্মশানে সিবিআইয়ের তৎপরতা

সিবিআইয়ের বিশেষ তদন্তকারী দল পানিহাটি শ্মশানে গিয়ে ইন-চার্জ ভোলানাথ পাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শ্মশানের কাজে যুক্ত থাকা কর্মীদের কাছ থেকেও ৯ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা সংশ্লিষ্ট সময়ের রেজিস্টার বুক এবং সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই তদন্তে মূলত দেহ সৎকারের আগে ও পরে কী কী ঘটনা ঘটেছিল, কারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং প্রশাসনিক স্তরে কী ধরনের যোগাযোগ হয়েছিল, সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ‘ভিআইপি দেহ’ আসছে বলে কোনও আগাম বার্তা দেওয়া হয়েছিল কি না, হয়ে থাকলে সেই বার্তার উৎস কী ছিল—এই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

৯ আগস্টের কয়েক ঘণ্টা ঘিরে তদন্ত

সিবিআইয়ের তদন্তে ৯ আগস্ট সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সময়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৪৪ মিনিটের মধ্যে কী ঘটেছিল, সেই সময়ের যোগাযোগ ও সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা খতিয়ে দেখার চেষ্টা চলছে। হাসপাতাল থেকে কারও ফোন বা নির্দেশ এসেছিল কি না, কিংবা কোনও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের আওতায় রয়েছে।

  • পানিহাটি শ্মশানের সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার পরীক্ষা করা হয়েছে।
  • ৯ আগস্টের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়েছে।
  • শ্মশানের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
  • তৎকালীন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
  • সৎকারের প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক যোগাযোগের সময়সীমা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তৎকালীন বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদ

এই মামলায় পানিহাটির তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকেও সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। অভিযোগ ছিল, মৃত চিকিৎসকের পরিবারের পরিবর্তে নির্মল ঘোষ এবং স্থানীয় কাউন্সিলররা শ্মশানের শংসাপত্রে সই করেছিলেন। সেই প্রক্রিয়ার কারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও তদন্তকারীরা জানতে চেয়েছেন বলে খবর।

পাশাপাশি, পানিহাটি শ্মশানে দ্রুত সৎকারের প্রক্রিয়া নিয়ে আলাদা তদন্তের বিষয়টিও সামনে এসেছে। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারকে এ বিষয়ে এফআইআর করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আর জি কর কাণ্ডের মূল তদন্তের পাশাপাশি সৎকার-পর্বের প্রশাসনিক ও আইনগত দিক নিয়েও আলাদা করে অনুসন্ধান চলছে।

আর জি কর মামলায় সিবিআইয়ের তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও আদালতের নজর রয়েছে। পরবর্তী স্ট্যাটাস রিপোর্টে পানিহাটি শ্মশান সংক্রান্ত অনুসন্ধানে কী তথ্য সামনে আসে, তা গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। ‘ভিআইপি দেহ’ সংক্রান্ত বার্তার সত্যতা, তার উৎস এবং ৯ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে তার কোনও যোগ ছিল কি না—তদন্তেই তার উত্তর মিলবে।