অশুভ গ্রহের প্রতিকার: ঘরে বসে ৫টি সহজ ও কার্যকর উপায়
অশুভ গ্রহ মানে কী?
জন্মছকে কোনো গ্রহ যদি দুর্বল, বিরোধী গ্রহের ঘরে, বা পাপগ্রহের সঙ্গে অবস্থান করে, তবে তাকে অশুভ বা "malefic" গ্রহ বলা হয়। যেমন – মঙ্গল, রাহু, কেতু, শনি ও সূর্য কিছু নির্দিষ্ট অবস্থানে অশুভ ফল দেয়। এদের প্রভাবে জীবনে দেরিতে সাফল্য, সম্পর্কের টানাপোড়েন, মানসিক চাপ, আর্থিক সমস্যা, ও স্বাস্থ্যগত বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
তবে চিন্তার কিছু নেই! জ্যোতিষ মতে, কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করলে এই অশুভ প্রভাব অনেকাংশে হ্রাস করা যায়। নিচে ৫টি কার্যকর ঘরোয়া প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করা হলো।
১. প্রদীপ জ্বালানো ও ঘিয়ের ব্যবহার
প্রতি সন্ধ্যায় ঘরে বা পূজার স্থানে ঘি বা তিলের তেল দিয়ে প্রদীপ জ্বালালে শনি, রাহু ও কেতুর অশুভ প্রভাব কমে। বিশেষ করে শনিবারে প্রদীপে কালো তিল ফেলে শনি দেবকে উদ্দেশ্য করে প্রার্থনা করলে শারীরিক ও আর্থিক বাধা হ্রাস পায়।
২. প্রতিদিন সূর্য প্রণাম ও জল প্রদান
রবির প্রভাব দুর্বল হলে আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বগুণ ও স্বাস্থ্য খারাপ হতে পারে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে সূর্য দেবতাকে জলে লাল ফুল ও চিনি দিয়ে অর্পণ করলে এবং “ॐ सूर्याय नमः” মন্ত্র জপ করলে শুভ ফল বৃদ্ধি পায়।
৩. দান ও সেবা – সহজে গ্রহ শান্তি
অশুভ গ্রহ শান্ত করার সবচেয়ে ভালো উপায় হল দান ও সেবা। যেমন:
🔹 শনি শান্তির জন্য শনিবারে কৃষ্ণবর্ণ কাপড়, কালো তিল ও লোহার দান করুন।
🔹 রাহু-কেতুর জন্য দরিদ্র, বৃদ্ধ বা অন্ধকে খাদ্য দিন।
🔹 মঙ্গল দোষ হ্রাসে মিষ্টি লাল খাবার বা লাল বস্ত্র দান করা যেতে পারে।
৪. মন্ত্র জপ – মানসিক শান্তি ও গ্রহ দমন
প্রতিদিন নির্দিষ্ট গ্রহের বিয় mantra জপ করলে ধ্যানের মাধ্যমে গ্রহের শক্তি নিয়ন্ত্রণে আসে। যেমন:
🔸 শনি – “ॐ शं शनैश्चराय नमः”
🔸 মঙ্গল – “ॐ अं अंगारकाय नमः”
🔸 রাহু – “ॐ राहवे नमः”
🔸 কেতু – “ॐ केतवे नमः”
একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে নির্জনে বসে প্রতিদিন ১১ বা ২১ বার জপ করলেই ফল পাওয়া যায়।
৫. তুলসী গাছ ও ঘরের পবিত্রতা বজায় রাখা
ঘরে তুলসী গাছ রাখা শুধু আধ্যাত্মিক নয়, গ্রহ দোষও হ্রাস করে। তুলসীর গাছে প্রতিদিন জল দেওয়া, সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালানো এবং “ॐ नमो भगवते वासुदेवाय” জপ করলে রাহু-কেতু ও শনির প্রভাব নিয়ন্ত্রণে থাকে। পাশাপাশি ঘরের নিয়মিত পরিস্কার ও ধূপ জ্বালানো নেগেটিভ শক্তি হ্রাস করে।
উপসংহার
জন্মছকে অশুভ গ্রহ থাকা মানেই জীবনে দুর্ভোগ আসবে, এমন নয়। সঠিক প্রতিকার, আধ্যাত্মিক চর্চা ও ইতিবাচক মনোভাবের মাধ্যমে সমস্ত প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রকৃত উদ্দেশ্য হল জীবনের সঠিক পথ খুঁজে পাওয়া – ভয় পাওয়ার নয়।
আপনি যদি দীর্ঘদিন ধরে জীবন সমস্যা, বাধা, বা মানসিক উদ্বেগে ভুগে থাকেন, তবে একজন অভিজ্ঞ জ্যোতিষীর পরামর্শ নিয়ে আপনার জন্মছক বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত প্রতিকার গ্রহণ করাই শ্রেয়।