লক্ষ্মী মিত্তালের উত্থান, বিশ্বের অন্যতম বড় ইস্পাত সংস্থার নেতৃত্ব থেকে রাজস্থান রয়্যালসের মালিকানায়
ইস্পাত ব্যবসা থেকে বিশ্বজোড়া পরিচিতি
ভারতীয় বংশোদ্ভূত শিল্পপতি লক্ষ্মী মিত্তাল বিশ্বের অন্যতম পরিচিত ইস্পাত ব্যবসায়ী। ২০২৬ সালের Forbes World’s Billionaires তালিকায় তিনি ভারতের চতুর্থ ধনী ব্যক্তি হিসেবে জায়গা পেয়েছেন। ১ মার্চ ২০২৬-এর হিসাব অনুযায়ী তাঁর সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তাঁর সম্পদের প্রধান উৎস ইস্পাত ব্যবসা এবং তিনি বিশ্বের বৃহত্তম ইস্পাত ও খনন সংস্থাগুলির অন্যতম ArcelorMittal-এর এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান।
লক্ষ্মী মিত্তাল ইস্পাত ব্যবসায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শিল্পজগতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। তিনি প্রথমে Mittal Steel গড়ে তোলেন এবং পরে ২০০৬ সালে ফ্রান্সের Arcelor-এর সঙ্গে সংযুক্তির মাধ্যমে ArcelorMittal তৈরি হয়। বর্তমানে তাঁর ছেলে আদিত্য মিত্তাল সংস্থাটির CEO হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, আর লক্ষ্মী মিত্তাল এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যানের ভূমিকায় রয়েছেন।
ArcelorMittal-এর নেতৃত্বে মিত্তাল
ArcelorMittal-এর ব্যবসা ইস্পাত উৎপাদনের পাশাপাশি খনন ক্ষেত্রেও বিস্তৃত। Forbes-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সংস্থাটির আয় ছিল প্রায় ৬১.৩ বিলিয়ন ডলার এবং একই বছরে কোম্পানিটি ৩.১৫ বিলিয়ন ডলার নিট আয় করেছে। এক বছর আগে যেখানে নিট আয় ছিল ১.৩ বিলিয়ন ডলার, সেখানে ২০২৫ সালে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ইস্পাত শিল্পে বিশ্বব্যাপী চাহিদা, কাঁচামালের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতির পরিবর্তন সংস্থাটির ব্যবসায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। ইউরোপীয় বাজারে আমদানি নিয়ন্ত্রণের মতো নীতিগত পরিবর্তনের পাশাপাশি ArcelorMittal-এর শেয়ারের শক্তিশালী পারফরম্যান্সও ২০২৬ সালের Forbes তালিকায় মিত্তালের সম্পদ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। ২০২৫ সালের তুলনায় তাঁর সম্পদ প্রায় ১১.৮ বিলিয়ন ডলার বা ৬১ শতাংশ বেড়ে ৩১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল।
ব্রিটেন ছেড়ে সুইজারল্যান্ডে নতুন ঠিকানা
দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে বসবাস করার পর লক্ষ্মী মিত্তাল তাঁর প্রধান আবাসস্থল সুইজারল্যান্ডে সরিয়ে নিয়েছেন। Forbes জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের নতুন করব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর বহু ধনী ব্যক্তির দেশত্যাগের প্রবণতার মধ্যেই মিত্তালও নিজের বেস সুইজারল্যান্ডে স্থানান্তর করেন। ২০২৬ সালের Forbes প্রোফাইলে তাঁর residence হিসেবে Switzerland উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তী প্রতিবেদনে Forbes আরও জানিয়েছে, মিত্তাল গত বছর যুক্তরাজ্য ছেড়ে তাঁর প্রধান আবাসস্থল দুবাই ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে স্থানান্তর করেছেন। ফলে তাঁর আবাসন পরিবর্তনকে শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, ব্রিটেনের নতুন করনীতির পর অতি-ধনীদের দেশত্যাগের বৃহত্তর প্রবণতার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
রাজস্থান রয়্যালসে বড় বিনিয়োগ
ইস্পাত ব্যবসার বাইরে ক্রিকেটেও লক্ষ্মী মিত্তালের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসে তিনি শিল্পপতি আদার পুনাওয়ালার সঙ্গে Rajasthan Royals কেনার জন্য ১.৬৫ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তিতে সম্মত হন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মিত্তাল ও তাঁর পরিবার দলের ৭৫ শতাংশ অংশীদারিত্ব নেবেন, আর আদার পুনাওয়ালা ১৮ শতাংশ অংশীদারিত্ব অর্জন করবেন। বাকি ৭ শতাংশ আগের বিনিয়োগকারীদের কাছে থাকবে।
চুক্তি সম্পন্ন হলে মিত্তাল, তাঁর ছেলে আদিত্য এবং মেয়ে বনিশা মিত্তাল-ভাটিয়া রাজস্থান রয়্যালসের বোর্ডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এই অধিগ্রহণের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার SA20 লিগের Paarl Royals এবং ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের Barbados Royals-ও যুক্ত থাকবে।
- ২০২৬ সালের Forbes তালিকায় লক্ষ্মী মিত্তাল ভারতের চতুর্থ ধনী ব্যক্তি।
- ১ মার্চ ২০২৬ অনুযায়ী তাঁর সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলার।
- তিনি ArcelorMittal-এর এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান।
- ২০২৬ সালে Rajasthan Royals কেনার জন্য ১.৬৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে সম্মত হন।
- যুক্তরাজ্য থেকে সরে তাঁর প্রধান আবাসস্থল সুইজারল্যান্ডে স্থানান্তরিত হয়েছে।
ব্যবসা ও ক্রিকেটে নতুন পর্ব
ইস্পাত শিল্পে কয়েক দশকের সাফল্যের পর লক্ষ্মী মিত্তালের ব্যবসায়িক পরিধি এখন ক্রিকেটেও বিস্তৃত হচ্ছে। ArcelorMittal-এর নেতৃত্বে বৈশ্বিক ইস্পাত ব্যবসা সামলানোর পাশাপাশি Rajasthan Royals-এ বড় বিনিয়োগ তাঁকে ভারতের ক্রীড়া ব্যবসার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগকারীদের তালিকায় নিয়ে এসেছে। একই সময়ে আবাসস্থল পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্রিটেনের করনীতির পরিবর্তনের প্রভাবও তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে স্পষ্ট হয়েছে।
ফলে লক্ষ্মী মিত্তালের বর্তমান পরিচয় শুধু একজন ইস্পাত শিল্পপতি হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। শিল্প, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ এবং ক্রিকেট—তিনটি ক্ষেত্রেই তাঁর প্রভাব ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে।
```