মুর্শিদাবাদে আপন কাকার হাতে তিন নাবালিকা খুন, আশঙ্কাজনক আরও এক বোন; গ্রেফতার অভিযুক্ত
মুর্শিদাবাদে নাবালিকা বোনদের উপর হামলা
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সুতি থানার রঘুনাথপুর গ্রামে চার নাবালিকাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে আরও এক শিশু। ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটে। মৃত তিন নাবালিকার বয়স ৪ থেকে ১১ বছরের মধ্যে বলে জানা গিয়েছে। আহত শিশুটির চিকিৎসা চলছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে খবর।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে গোলাম সারওয়ার ওরফে বাদশা নামে ২২ বছর বয়সি এক যুবককে গ্রেফতার করেছে সুতি থানার পুলিশ। তিনি নিহত ও আহত শিশুদের কাকা বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে রক্তাক্ত অস্ত্র নিয়ে তিনি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।
খেলার সময় হামলার অভিযোগ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযুক্তের বাড়ির চত্বরে চার নাবালিকা একসঙ্গে খেলছিল। সেই সময় অভিযুক্ত ধারালো একটি অস্ত্র নিয়ে শিশুদের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। হামলার পর স্থানীয়রা আহত শিশুদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
হামলায় চার বছর বয়সি এক শিশু ঘটনাস্থলেই মারা যায় বলে জানা গিয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় অন্য তিন শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়। চতুর্থ শিশুটিকে বহরমপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
হামলার পর থানায় আত্মসমর্পণ
ঘটনার পর অভিযুক্ত এলাকা ছেড়ে পালানোর পরিবর্তে এক টোটোচালককে থামিয়ে তাঁর সাহায্যে থানায় যাওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে দাবি, হাতে রক্তাক্ত অস্ত্র নিয়ে টোটোচালকের গলায় তা ঠেকিয়ে তাকে সুতি থানায় নিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়। পরে থানায় পৌঁছে অভিযুক্ত পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এত অল্প বয়সি শিশুদের উপর হামলার ঘটনায় পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কেন অভিযুক্ত এমন পদক্ষেপ করল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
অভিযুক্তকে আদালতে পেশ, হেফাজত চাইল পুলিশ
সুতি থানার পুলিশ গোলাম সারওয়ার ওরফে বাদশাকে গ্রেফতার করার পর ১৪ আগস্ট শুক্রবার জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে পেশ করেছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। পুলিশ তাঁর কাছ থেকে ঘটনার কারণ, হামলার আগে ও পরে তাঁর গতিবিধি এবং ব্যবহৃত অস্ত্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছে।
- ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের সুতি থানার রঘুনাথপুর গ্রামে।
- চার নাবালিকার উপর হামলার ঘটনায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।
- আরও এক নাবালিকা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
- অভিযুক্ত গোলাম সারওয়ার ওরফে বাদশার বয়স ২২ বছর।
- ঘটনার পর অভিযুক্ত থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
- তদন্তের জন্য পুলিশ অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করেছে।
মানসিক অবস্থার বিষয়টিও তদন্তে
জঙ্গিপুর জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার সুরিন্দর সিং জানিয়েছেন, গ্রেফতারের পর অভিযুক্তের মধ্যে অনুশোচনার লক্ষণ দেখা যায়নি এবং তাঁর মানসিক অবস্থাও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। তবে কাউকে মানসিকভাবে অসুস্থ বা অস্থিতিশীল হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করার আগে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশ আপাতত ঘটনার পেছনে সম্ভাব্য একাধিক কারণ খতিয়ে দেখছে। কোনও পারিবারিক বিবাদ, পুরোনো বিরোধ অথবা অভিযুক্তের ব্যক্তিগত ও মানসিক পরিস্থিতির সঙ্গে এই ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সময় বাড়িতে অন্য কোনও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের অংশ।
তদন্তেই পরিষ্কার হবে হত্যার কারণ
তিন নাবালিকার মৃত্যু এবং আরও এক শিশুর গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় এখন পুলিশের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল হামলার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা। অভিযুক্তের জিজ্ঞাসাবাদ, পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, ঘটনাস্থলের তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেফতার করা হলেও হত্যাকাণ্ডের পেছনে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনও তদন্তাধীন। আহত শিশুটির চিকিৎসার পাশাপাশি মৃত শিশুদের ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হবে। তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতিতেই ঘটনার পূর্ণ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
```