অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই, বড় স্বস্তি দিল কলকাতা হাইকোর্ট

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই, বড় স্বস্তি দিল কলকাতা হাইকোর্ট

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বড় আইনি স্বস্তি

তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট বড় আইনি স্বস্তি দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, গত ৪ মে-র পর দায়ের হওয়া সংশ্লিষ্ট মামলা বা অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে এই মুহূর্তে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই। ফলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির হেফাজতে নিয়ে জেরা করার দাবিতে আপাতত আইনি বাধা তৈরি হয়েছে।

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের একক বেঞ্চ মামলাটির শুনানি করে এই পর্যবেক্ষণ দেয়। আদালতের নির্দেশের ফলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই, আদালতের পর্যবেক্ষণ

মামলার শুনানিতে আদালতের সামনে প্রশ্ন ওঠে, গত ৪ মে-র পর রুজু হওয়া নতুন মামলা বা অভিযোগের ভিত্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা আদৌ প্রয়োজন কি না। আদালত এই মুহূর্তে সেই প্রয়োজনীয়তার যুক্তি গ্রহণ করেনি।

তবে এর অর্থ তদন্ত প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। তদন্তকারী সংস্থাগুলি প্রয়োজনে তাঁকে নোটিশ পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকতে পারবে এবং তদন্ত সংক্রান্ত তথ্য বা নথি চাইতে পারবে। আদালত স্পষ্ট করেছে, তদন্তে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে হবে।

  • হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা এই মুহূর্তে মানেনি আদালত
  • তদন্তকারী সংস্থা নোটিশ পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকতে পারবে
  • তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে
  • সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা নেই
  • নির্দিষ্ট শর্ত মেনে তদন্তকারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে

মামলার প্রেক্ষাপট কী?

এই আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে নিয়োগ দুর্নীতি এবং কয়লা পাচার সংক্রান্ত তদন্তের বিষয় উঠে এসেছে। গত ৪ মে-র পর নতুন কিছু এফআইআর এবং মামলার নথি যুক্ত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদ ও হেফাজতের প্রয়োজনীয়তার প্রশ্ন সামনে আসে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি পক্ষের দাবি ছিল, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একের পর এক মামলা ও নতুন অভিযোগের মাধ্যমে তাঁকে হেনস্থা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতেই আদালতের দ্বারস্থ হয় তাঁর পক্ষ।

তদন্তে সহযোগিতার শর্ত

আদালতের নির্দেশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তদন্তে সহযোগিতা করার বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা প্রয়োজন মনে করলে তাঁকে নোটিশ পাঠিয়ে নির্দিষ্ট বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকতে পারবে।

তদন্তের স্বার্থে আর্থিক লেনদেন, নথিপত্র বা অন্য কোনও তথ্য প্রয়োজন হলে নির্ধারিত নিয়ম মেনে তা তদন্তকারী সংস্থার কাছে জমা দিতে হতে পারে। বিদেশ সফরের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট আদালতের নির্দেশ বা আইনি নিয়ম মেনে চলতে হবে।

রাজনৈতিক মহলে শুরু তরজা

কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশের পর রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তকে আইনি স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলের দাবি, আদালতের নির্দেশে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের অবস্থানের পক্ষে স্বস্তিদায়ক বার্তা মিলেছে।

অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, আদালতের এই নির্দেশ তদন্ত বন্ধ করে দেয়নি। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলির তদন্ত প্রক্রিয়া চলবে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় তথ্য সামনে আসবে।

পরবর্তী শুনানিতে তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট

মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্যও কলকাতা হাইকোর্ট দিন ধার্য করেছে। সেই শুনানিতে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আদালতকে জানাতে হতে পারে।

সব মিলিয়ে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই মুহূর্তে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই বলে আদালতের পর্যবেক্ষণ তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি স্বস্তি হিসেবে সামনে এসেছে। তবে মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং পরবর্তী শুনানিতে বিষয়টির আরও অগ্রগতি হতে পারে।