কলকাতা-হাওড়া পুরসভায় বাড়ছে ওয়ার্ড, বিধানসভায় পাস দুই সংশোধনী বিল

কলকাতা-হাওড়া পুরসভায় বাড়ছে ওয়ার্ড, বিধানসভায় পাস দুই সংশোধনী বিল

কলকাতা ও হাওড়া পুরসভায় বাড়ছে ওয়ার্ড

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিশেষ একদিনের অধিবেশনে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত দুটি সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট বুধবার ধ্বনিভোটের মাধ্যমে বিল দুটি অনুমোদিত হয়। এর ফলে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা বর্তমান ১৪৪ থেকে বেড়ে ২০৯ এবং হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে বেড়ে ৬৮ হওয়ার আইনি পথ তৈরি হয়েছে।

কলকাতা পুরসভায় ৬৫টি এবং হাওড়া পুরসভায় ১৮টি ওয়ার্ড বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, শহরাঞ্চলে জনসংখ্যার পরিবর্তন, প্রশাসনিক সুবিধা এবং নাগরিক পরিষেবা আরও কার্যকর করার প্রয়োজন থেকেই এই পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বিল পাস হওয়া মানেই নতুন ওয়ার্ডের চূড়ান্ত সীমানা সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়ে যাওয়া নয়। এর পর আরও প্রশাসনিক ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

কেন বাড়ানো হচ্ছে ওয়ার্ডের সংখ্যা?

বিধানসভায় সংশোধনী বিলগুলি পেশ করেন নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কলকাতা ও হাওড়ার বিভিন্ন এলাকায় জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং বসতির বিন্যাসে পরিবর্তন এসেছে। সেই বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুর প্রশাসনের কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন।

ছোট আয়তনের ওয়ার্ড হলে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষে বাসিন্দাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিষেবা পরিচালনা করা সহজ হতে পারে। পানীয় জল, নিকাশি, রাস্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য নাগরিক পরিষেবার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক নজরদারি আরও কার্যকর করার লক্ষ্যও এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। হাওড়ার পরিকাঠামো ও জলমগ্নতা সংক্রান্ত সমস্যার মোকাবিলাও সরকারের নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম বিষয়।

  • কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে ২০৯ করার প্রস্তাব পাস হয়েছে।
  • হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে ৬৮ করার প্রস্তাব পাস হয়েছে।
  • কলকাতায় ৬৫টি এবং হাওড়ায় ১৮টি নতুন ওয়ার্ড যুক্ত হবে।
  • ওয়ার্ডের চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণের জন্য পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

চূড়ান্ত সীমানা কীভাবে নির্ধারিত হবে?

বিধানসভায় বিল পাস হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণের কাজ এগোবে। নতুন সীমানার খসড়া তৈরি ও প্রকাশের পর সাধারণ মানুষের দাবি এবং আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকবে। এরপর প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রশাসনের সমন্বয়ও এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির মতামত বিবেচনার বিষয়টিও সামনে এসেছে। ফলে নতুন ওয়ার্ডের মানচিত্র চূড়ান্ত হওয়ার আগে একাধিক ধাপ অতিক্রম করতে হবে।

হাওড়া ও বালিকে ঘিরে প্রশাসনিক পরিবর্তন

হাওড়ার ক্ষেত্রে পুর প্রশাসনের কাঠামো নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে পরিবর্তন ও বিতর্ক রয়েছে। হাওড়া ও বালির প্রশাসনিক সম্পর্ক নিয়ে আগেও একাধিক আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের নতুন ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগের ফলে হাওড়া পুর এলাকার প্রশাসনিক কাঠামো আরও একবার আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

হাওড়া পুরসভার নির্বাচন দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনীয় ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস এবং অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে বছরের শেষ দিকে পুর নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য রয়েছে। কলকাতা পুরসভার ক্ষেত্রেও ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস শেষ করেই নির্বাচন আয়োজনের কথা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও পুরভোটের সম্ভাবনা

ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের বিল নিয়ে বিধানসভায় শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্কও হয়েছে। বিরোধী শিবিরের কয়েকজন নেতা নতুন সীমানা নির্ধারণের পদ্ধতি এবং ভোটারদের বণ্টন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে সরকারের বক্তব্য, জনসংখ্যা ও নাগরিক পরিষেবার প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুর এলাকার প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তন করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

সব মিলিয়ে, ১২ আগস্টের বিধানসভা অধিবেশনের সিদ্ধান্ত কলকাতা ও হাওড়ার পুর প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করেছে। এখন নজর থাকবে ওয়ার্ডের খসড়া সীমানা, দাবি-আপত্তি গ্রহণ, চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই নতুন কাঠামোয় পুর নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

```