নির্মল ঘোষ গ্রেফতার: আর জি কর নির্যাতিতার দেহ দ্রুত সৎকারের অভিযোগে বালেশ্বরের হোটেল থেকে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আটক
আর জি কর নির্যাতিতার দেহ দ্রুত সৎকারের অভিযোগে নির্মল ঘোষ গ্রেফতার
আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ২০২৪ সালের আগস্টে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর তাঁর দেহ দ্রুত সৎকার করানো নিয়ে ওঠা অভিযোগে প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক নির্মল ঘোষকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ১৩ আগস্ট ওড়িশার বালেশ্বর জেলার সিমুলিয়া এলাকার একটি হোটেল থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় পুলিশের যৌথ অভিযানে এই গ্রেফতার হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই গ্রেফতার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI করেনি। নির্যাতিতার বাবার দায়ের করা নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে খড়দহ থানায় মামলা রুজু হওয়ার পর ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের তদন্তের অংশ হিসেবেই নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, মোবাইল ফোনের অবস্থান সংক্রান্ত তথ্যের সূত্র ধরে তাঁর অবস্থান চিহ্নিত করা হয়।
কী অভিযোগ রয়েছে নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে?
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আর জি কর হাসপাতালের একটি সেমিনার হল থেকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। পরে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা সামনে আসে। তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে নির্যাতিতার দেহ পানিহাটির শ্মশানে দ্রুত সৎকার করা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে, স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তাড়াহুড়ো করে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল।
নতুন অভিযোগে নির্মল ঘোষের পাশাপাশি আরও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ, নির্যাতিতার পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করে দ্রুত সৎকারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অভিযোগকারীদের আশঙ্কা, এর ফলে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের সম্ভাবনা নষ্ট হতে পারত। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি এবং তদন্তকারী সংস্থা সমস্ত তথ্য ও প্রমাণ খতিয়ে দেখছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন FIR-এ প্রমাণ নষ্ট করা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং জোর করে কোনও কাজ করানোর মতো অভিযোগে তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্ট ধারাগুলির চূড়ান্ত আইনি অবস্থান তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করবে।
- ১৩ আগস্ট ওড়িশার বালেশ্বরের সিমুলিয়া এলাকা থেকে নির্মল ঘোষ গ্রেফতার হন
- গ্রেফতারি হয়েছে খড়দহ থানায় দায়ের হওয়া নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে
- তদন্ত করছে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের অধীন পুলিশ
- অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নির্যাতিতার দেহ দ্রুত সৎকারের ঘটনা
- মোবাইল ফোনের অবস্থান সংক্রান্ত তথ্যের সূত্র ধরে পুলিশ তাঁর অবস্থান চিহ্নিত করে বলে জানা গিয়েছে
নতুন FIR-এর পর তদন্তে গতি
নির্যাতিতার বাবার নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে খড়দহ থানায় FIR রুজু হওয়ার পর এই মামলার তদন্তে নতুন মোড় আসে। ওই অভিযোগে নির্মল ঘোষ, নির্যাতিতার পরিবারের প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং পানিহাটি পুরসভার সঙ্গে যুক্ত সোমনাথ দে-র নামও উঠে আসে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। পরে সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ও গ্রেফতার হন, অন্য অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছিল।
তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য হল, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট দেহ উদ্ধারের পর থেকে সৎকার পর্যন্ত পুরো ঘটনাপ্রবাহ নতুন করে খতিয়ে দেখা। কারা ওই প্রক্রিয়ায় উপস্থিত ছিলেন, কে কী ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং পরিবারের অভিযোগের সঙ্গে তৎকালীন নথি ও অন্যান্য প্রমাণের কোনও সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা তদন্তে দেখা হচ্ছে।
বালেশ্বরের হোটেল থেকে গ্রেফতার
পুলিশ সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্মল ঘোষ কয়েক দিন ধরে ওড়িশায় ছিলেন। তাঁর মোবাইল ফোনের অবস্থান ট্র্যাক করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি দল বালেশ্বরের সিমুলিয়া এলাকায় পৌঁছয়। স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাঁকে সড়কপথে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৪ আগস্ট তাঁকে উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করা হবে এবং তদন্তের স্বার্থে পুলিশ হেফাজতের আবেদন করা হতে পারে। আদালত এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সৎকার বিতর্ক কেন নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ?
আর জি কর মামলার তদন্তে প্রমাণ সংরক্ষণ ও প্রাথমিক তদন্তের পদ্ধতি নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল। ২০২৪ সালের তদন্ত-সংক্রান্ত নথি ও আদালতের প্রক্রিয়াতেও দ্রুত সৎকার নিয়ে পরিবারের আপত্তির প্রসঙ্গ উঠে এসেছিল। নতুন FIR-এর পর সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করে পৃথকভাবে তদন্ত শুরু হওয়ায় বিষয়টি আবারও গুরুত্ব পেয়েছে।
সব মিলিয়ে, আর জি কর মামলায় তরুণী চিকিৎসকের দেহ দ্রুত সৎকারের অভিযোগে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের গ্রেফতার তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন অধ্যায়। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।