ভারত-রাশিয়ার ১০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য লক্ষ্য, ২০৩০ পর্যন্ত যৌথ অর্থনৈতিক রোডম্যাপ চূড়ান্ত

ভারত-রাশিয়ার ১০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য লক্ষ্য, ২০৩০ পর্যন্ত যৌথ অর্থনৈতিক রোডম্যাপ চূড়ান্ত

২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য লক্ষ্য

ভারত ও রাশিয়া আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে একটি যৌথ অর্থনৈতিক রোডম্যাপ চূড়ান্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এই দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দ্রুত বাড়ছে ভারত-রাশিয়া বাণিজ্য

গত কয়েক বছরে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি, অপরিশোধিত তেল, সার, কয়লা এবং বিভিন্ন শিল্পপণ্যের বাণিজ্য বৃদ্ধির ফলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। বর্তমান বাণিজ্য প্রবাহকে আরও বাড়িয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছনোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি সহযোগিতায় বিশেষ গুরুত্ব

নতুন অর্থনৈতিক রোডম্যাপে জ্বালানি নিরাপত্তাকে অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভারতের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল, কয়লা ও অন্যান্য জ্বালানি সম্পদ সরবরাহের সহযোগিতা আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি তামিলনাড়ুর কুদনকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়টিও দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ভারতের রপ্তানিতে জোর

বর্তমানে ভারত-রাশিয়া বাণিজ্যে রাশিয়া থেকে ভারতের আমদানির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। এই বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা কমাতে ভারতীয় কৃষিপণ্য, ওষুধ, ইলেকট্রনিক্স, রাসায়নিক, গাড়ি ও টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশ আরও সহজ করতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।

রুপি-রুবল লেনদেন ব্যবস্থায় গুরুত্ব

মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও দুই দেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। রুপি ও রুবলের মাধ্যমে লেনদেন এবং পেমেন্ট সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার বিভিন্ন জটিলতার মধ্যেও দুই দেশের ব্যবসায়িক লেনদেন আরও সহজ হতে পারে।

নতুন পরিবহন করিডোরে কমবে সময় ও খরচ

ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত ও সাশ্রয়ী করতে আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডোর বা INSTC-এর ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি চেন্নাই-ভ্লাদিভোস্তক সামুদ্রিক রুটের মতো নতুন পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই রুটগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হলে দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহনের সময় ও খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।

বিনিয়োগ ও দক্ষ কর্মসংস্থানে নতুন সম্ভাবনা

বাণিজ্যের পাশাপাশি ভারত ও রাশিয়া পারস্পরিক বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকেও জোর দিচ্ছে। উন্নত উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি, গ্রিন টেকনোলজি এবং বিভিন্ন শিল্প ক্ষেত্রে যৌথ বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার বিভিন্ন শিল্প ও পরিষেবা ক্ষেত্রে দক্ষ ভারতীয় পেশাদারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও সহযোগিতা জোরদার হতে পারে।

ভারত-রাশিয়া অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, পরিবহন ও বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থায় সহযোগিতা বাড়লে আগামী কয়েক বছরে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।