পূর্ব বর্ধমানে ঘুমের মধ্যে সাপের কামড়ে মা ও শিশুকন্যার মৃত্যু, হাসপাতালে লড়ছে বড় মেয়ে
পূর্ব বর্ধমানে সাপের কামড়ে মর্মান্তিক ঘটনা, মৃত্যু মা ও শিশুকন্যার
পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার থানার গর্দানমারি গ্রামে সাপের কামড়ে একই পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শনিবার ভোরে ঘুমন্ত অবস্থায় মা ও তাঁর দুই মেয়েকে একটি বিষধর সাপ কামড়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় মা পাকু হেমব্রম (৩৫) এবং তাঁর সাত বছরের মেয়ে রিয়া হেমব্রমের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের বড় মেয়ে অনুপ্রিয়া হেমব্রম গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার ভোরে পাকু হেমব্রম তাঁর দুই মেয়েকে নিয়ে বাড়ির ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় একটি বিষধর সাপ ঘরে ঢুকে তিনজনকেই কামড়ায়। কিছুক্ষণ পর থেকেই তাঁদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা পাকু হেমব্রমকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভর্তি হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু হয় ছোট মেয়ে রিয়া হেমব্রমের। অন্যদিকে বড় মেয়ে অনুপ্রিয়ার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। চিকিৎসকেরা তাঁর চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ঘটনার পর এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামবাসীদের একাংশের অনুমান, এটি কালাচ সাপের কামড় হতে পারে। তাঁদের দাবি, আক্রান্তদের শরীরে স্পষ্ট কামড়ের দাগ দেখা যায়নি, যা অনেক সময় কালাচ সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায়। তবে কোন প্রজাতির সাপের কামড়ে এই ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য- পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার গর্দানমারি গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।
- সাপের কামড়ে মা পাকু হেমব্রম ও সাত বছরের রিয়া হেমব্রমের মৃত্যু হয়েছে।
- বড় মেয়ে অনুপ্রিয়া হেমব্রম গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
- সাপের প্রজাতি সম্পর্কে সরকারি ভাবে এখনও কোনও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
- ঘটনার পর এলাকায় সাপ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।
পরিবারে শোক, সচেতনতার উপর জোর
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতা পাকু হেমব্রমের স্বামী সাধন হেমব্রম কর্মসূত্রে চেন্নাইয়ে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। ঘটনার খবর পাওয়ার পর ভাতার থানার পুলিশ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানায়। পরিবারের উপর নেমে আসা এই শোকের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যেও গভীর দুঃখের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এদিকে এই ঘটনার পর একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গ্রামে সাপ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব বাড়ার কারণে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, রাতে সতর্ক থাকা এবং সাপের কামড়ের ঘটনা ঘটলে দ্রুত নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলির উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।