দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাতটি নতুন বিষয় চালুর অনুমোদন, উচ্চশিক্ষায় বাড়ল সুযোগ
দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাতটি নতুন বিষয়
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও সাতটি নতুন বিষয় চালুর অনুমোদন দিয়েছে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতর। প্রায় চার বছর ধরে এই বিষয়গুলি চালুর জন্য চেষ্টা চলছিল। অবশেষে অনুমোদন পাওয়ায় জেলার পড়ুয়াদের সামনে উচ্চশিক্ষার আরও সুযোগ তৈরি হল। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন বিষয়গুলিতে স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনার সুযোগ মিলবে।
এতদিন দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে মূলত বাংলা, ইতিহাসের বদলে ইংরেজি, অঙ্ক এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান—এই তিনটি বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ ছিল। নতুন অনুমোদনের ফলে এবার বাংলা, ইতিহাস, সংস্কৃত, রসায়ন, ভূগোল, শিক্ষাবিজ্ঞান এবং দর্শন যুক্ত হচ্ছে। প্রতিটি নতুন বিষয়ে ৫০টি করে আসন বরাদ্দ করা হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
কোন কোন বিষয়ে পড়ার সুযোগ
উচ্চশিক্ষা দফতরের অনুমোদন পাওয়া সাতটি নতুন বিষয় হল বাংলা, ইতিহাস, সংস্কৃত, রসায়ন, ভূগোল, শিক্ষাবিজ্ঞান এবং দর্শন। এর মধ্যে মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানের পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয়ও রয়েছে। ফলে জেলার পড়ুয়াদের জন্য নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী স্নাতকোত্তর স্তরে বিষয় বেছে নেওয়ার সুযোগ আগের তুলনায় অনেকটাই বাড়ল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দ্রুত ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নতুন বিষয়গুলিতে আসন বরাদ্দ হওয়ায় চলতি শিক্ষাবর্ষেই পড়াশোনা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। যেসব পড়ুয়া নিজেদের জেলাতেই উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে চান, তাঁদের কাছে এই অনুমোদন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বাইরের জেলায় যাওয়ার চাপ কমবে
দক্ষিণ দিনাজপুরের বহু পড়ুয়াকে উচ্চশিক্ষার জন্য মালদহ, রায়গঞ্জ বা রাজ্যের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হয়। স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয়সংখ্যা কম থাকায় পছন্দের বিষয়ে পড়ার জন্য জেলার বাইরে যাওয়াই অনেকের কাছে একমাত্র পথ ছিল। নতুন সাতটি বিষয় চালু হলে এই পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। বিশেষ করে বাংলা, ইতিহাস, সংস্কৃত, দর্শন এবং শিক্ষাবিজ্ঞানের মতো বিষয়ে পড়তে আগ্রহী পড়ুয়ারা এবার নিজেদের জেলাতেই সুযোগ পেতে পারেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, নতুন বিষয় চালুর ফলে জেলার উচ্চশিক্ষার পরিকাঠামো আরও বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পড়ুয়াদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার আগ্রহও বাড়তে পারে। দীর্ঘদিন ধরে নতুন বিষয় চালুর দাবি থাকায় অনুমোদনের খবরকে শিক্ষা মহলে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অতিথি অধ্যাপকদের দিয়ে শুরু হবে পঠনপাঠন
নতুন সাতটি বিষয়ের জন্য আপাতত স্থায়ী অধ্যাপক নিয়োগের অনুমোদন আসেনি। তাই শুরুতে বিভিন্ন কলেজের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অধ্যাপকদের অতিথি অধ্যাপক হিসেবে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি হলে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া হতে পারে।
নতুন বিষয়গুলির ক্লাস শুরু করার জন্য পরিকাঠামোগত ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস এখনও সম্পূর্ণভাবে তৈরি হয়নি। আপাতত বালুরঘাটের মাহিনগরে কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিকাঠামো ব্যবহার করে নতুন বিষয়গুলির পঠনপাঠন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ভর্তি প্রক্রিয়ায় নতুন সুযোগ
অনুমোদনের পর বিশ্ববিদ্যালয় নতুন সাতটি বিষয় এবং আগে থেকে চালু থাকা তিনটি বিষয় মিলিয়ে মোট ১০টি বিষয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করছে। নতুন সাতটি বিষয়ে প্রতিটিতে ৫০টি করে আসন থাকায় মোট ৩৫০টি নতুন আসনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া আগে শুরু হওয়ায় পর্যাপ্ত পড়ুয়া পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সামনে কিছুটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
তবুও জেলার বহু পড়ুয়া নিজেদের এলাকায় থেকেই উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। নতুন বিষয়গুলির অনুমোদন সেই পড়ুয়াদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও দ্রুত ভর্তি ও পঠনপাঠন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
স্থায়ী ক্যাম্পাস ও শিক্ষক নিয়োগ এখনও গুরুত্বপূর্ণ
নতুন বিষয় চালুর পাশাপাশি দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস, প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো এবং স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টিও ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। কারণ নতুন বিভাগ চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ল্যাবরেটরি, শ্রেণিকক্ষ, গ্রন্থাগার এবং অন্যান্য শিক্ষাগত সুবিধার প্রয়োজন বাড়বে। বিশেষ করে রসায়ন ও ভূগোলের মতো বিষয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক পরিকাঠামো গড়ে তোলাও জরুরি।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর সাতটি নতুন বিষয়ে অনুমোদন পাওয়ায় দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ল। এখন মূল লক্ষ্য দ্রুত ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করে নতুন বিষয়গুলির পঠনপাঠন শুরু করা। পাশাপাশি স্থায়ী ক্যাম্পাস ও শিক্ষক নিয়োগের কাজ এগোলে আগামী দিনে জেলার উচ্চশিক্ষার পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হতে পারে।