পুজোর আগে শপিং মলে অগ্নিসুরক্ষা অডিট, সাউথ সিটি থেকে শুরু দমকলের অভিযান

পুজোর আগে শপিং মলে অগ্নিসুরক্ষা অডিট, সাউথ সিটি থেকে শুরু দমকলের অভিযান

পুজোর আগে শপিং মলে অগ্নিসুরক্ষা পরীক্ষা

দুর্গাপুজোর আগে কলকাতার শপিং মলগুলিতে অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে দমকল দফতর। বুধবার দক্ষিণ কলকাতার সাউথ সিটি মল থেকে এই ফায়ার অডিটের গুরুত্বপূর্ণ পর্ব শুরু হয়। পাশাপাশি শহরের আরও কয়েকটি শপিং মল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করেন দমকল ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।

পুজোর সময় কলকাতার শপিং মলগুলিতে সাধারণ দিনের তুলনায় অনেক বেশি মানুষের ভিড় হয়। কেনাকাটা, খাবার এবং বিনোদনের জন্য বিপুল সংখ্যক মানুষ মলে আসেন। সেই কারণে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত সাধারণ মানুষকে নিরাপদে বের করে আনার ব্যবস্থা ঠিকঠাক রয়েছে কি না, তা আগে থেকেই পরীক্ষা করে নিতে চাইছে প্রশাসন।

সাউথ সিটিতে কী কী খতিয়ে দেখা হল

দমকল আধিকারিকরা সাউথ সিটি মলে গিয়ে প্রথমে বিভিন্ন রেস্তরাঁ ও রান্নাঘরের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করেন। এরপর ফুড কোর্ট এবং মলের অন্যান্য অংশেও পরিদর্শন চালানো হয়। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ও অন্যান্য ফায়ার-ফাইটিং সরঞ্জাম কার্যকর রয়েছে কি না, সেগুলি পরীক্ষা করা হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত বেরোনোর পথ বা এক্সিট কতটা সহজে ব্যবহার করা যাবে, সেদিকেও নজর দেওয়া হয়।

অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ যাতে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত বেরিয়ে যেতে পারেন, তার জন্য মলের ভিতরে পর্যাপ্ত এবং স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাউথ সিটি মলে পরিদর্শনের সময় আধিকারিকরা বিভিন্ন জায়গার এক্সিট সাইনেজ আরও স্পষ্ট ও বড় করার মতো পরামর্শও দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

ফুড কোর্ট ও রেস্তরাঁয় বিশেষ নজর

শপিং মলের ভিতরে থাকা রেস্তরাঁ এবং ফুড কোর্টগুলির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রান্নাঘরে আগুন লাগার সম্ভাবনা বেশি থাকায় গ্যাস, বৈদ্যুতিক সংযোগ, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কর্মীদের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ফুড কোর্টে বিপুল সংখ্যক মানুষ একসঙ্গে থাকলে তাঁদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

শুধু অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকলেই হবে না, সেগুলি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে কি না এবং প্রয়োজনের সময় সঠিকভাবে কাজ করবে কি না, সেটিও অডিটের অংশ। ধোঁয়া শনাক্তকারী যন্ত্র, ফায়ার অ্যালার্ম এবং হাইড্র্যান্টে পর্যাপ্ত জলের চাপ রয়েছে কি না, সেই বিষয়গুলিও বিভিন্ন মলে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

২৯টি শপিং মলে অডিটের পরিকল্পনা

দমকল দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা ও শহরতলির মোট ২৯টি শপিং মলে এই বিশেষ অগ্নিসুরক্ষা অডিট চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সাউথ সিটি ছাড়াও মণি স্কোয়ার, অ্যাভানি রিভারসাইড, ওয়েস্টসাইড-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন করা হচ্ছে। শহরের বাইরের কিছু এলাকাতেও একই ধরনের পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

এই অডিটের মাধ্যমে মূলত মলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা প্রস্তুতি, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের কার্যকারিতা, জরুরি বেরোনোর রাস্তা এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। কোথাও কোনও ঘাটতি পাওয়া গেলে তা সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

পুজোর ভিড়ের আগে কেন এই নজরদারি

দুর্গাপুজোর সময় কলকাতার বাজার, শপিং মল, রেস্তরাঁ এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে মানুষের ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ফলে অগ্নিকাণ্ডের মতো কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে সাধারণ দিনের তুলনায় পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই উৎসবের মরশুম শুরু হওয়ার আগেই অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বল জায়গাগুলি চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে প্রশাসন।

সম্প্রতি শহরের কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে নজরদারি শুরু হয়েছে। হোটেল ও গেস্ট হাউসের পর এবার শপিং মলগুলিতেও এই ধরনের পরিদর্শন শুরু হওয়ায় অগ্নিসুরক্ষা বিধি মেনে চলার বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে।

ঘাটতি থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত

দমকলের এই অডিটের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র সরঞ্জাম পরীক্ষা করা নয়, বরং জরুরি পরিস্থিতিতে একটি শপিং মল কতটা দ্রুত এবং নিরাপদে মানুষকে সরিয়ে নিতে পারবে, তা যাচাই করা। কোথাও নিয়মের ঘাটতি বা নিরাপত্তাজনিত সমস্যা ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেলে নিয়ম অনুযায়ী আরও কঠোর পদক্ষেপের সম্ভাবনাও রয়েছে।

পুজোর আগে কলকাতার শপিং মলগুলিতে এই বিশেষ অগ্নিসুরক্ষা অডিট তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাউথ সিটি দিয়ে শুরু হওয়া এই অভিযান আগামী দিনে শহরের আরও একাধিক মলে চলবে। উৎসবের সময়ে বিপুল ভিড়ের মধ্যে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই নজরদারির মূল লক্ষ্য।