দুর্গাপুজো ও বিসর্জনে ডিজে বাজানো নিষিদ্ধ, কড়া নির্দেশ জারি করল রাজ্য প্রশাসন
দুর্গাপুজো ও বিসর্জনে ডিজে বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কড়া নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য প্রশাসন
আসন্ন দুর্গোৎসব ও প্রতিমা বিসর্জনের সময় শব্দদূষণ রোধ করতে এবং জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রশাসন। উৎসবের আনন্দ যাতে মানুষের ভোগান্তির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সে কথা মাথায় রেখে দুর্গাপুজোর মণ্ডপ এবং বিসর্জনের শোভাযাত্রায় ডিজে (DJ) সাউন্ড সিস্টেম বাজানোর ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই নির্দেশ অমান্য করলে আয়োজক কমিটি এবং সাউন্ড বক্স মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতি বছর দুর্গাপুজোর দিনগুলোতে এবং বিশেষ করে বিজয়া দশমীর বিসর্জনের সময় অতিরিক্ত শব্দ এবং উচ্চস্বরে গান বাজানোর কারণে প্রবীণ নাগরিক, রোগী ও ছাত্রছাত্রীদের চরম সমস্যায় পড়তে হয়। আদালতের নির্দেশিকা এবং পরিবেশগত নিয়মনীতি কঠোরভাবে মেনে চলার জন্যই রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসন এবার অনেক বেশি তৎপর। নির্দিষ্ট ডেসিবেল সীমার বাইরে গিয়ে কোনো বক্স বা মাইক বাজানো চলবে না এবং ডিজে বক্সের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে বলে জেলাগুলিতে ইতিমধ্যেই সরকারি নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: রাজ্য প্রশাসনের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, দুর্গাপুজো কমিটিগুলোকে নির্ধারিত শব্দবিধি মেনে চলতে হবে এবং বিসর্জনের মিছিলে কোনো অবস্থাতেই ডিজে বক্স বা উচ্চ ক্ষমতার সাউন্ড বক্স ব্যবহার করা যাবে না।
- প্রধান নির্দেশ: দুর্গাপুজো ও প্রতিমা বিসর্জনে ডিজে (DJ) সাউন্ড সিস্টেম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
- আইনি পদক্ষেপ: নিয়ম অমান্য করলে সাউন্ড সিস্টেম বাজেয়াপ্ত ও পুজো কমিটির বিরুদ্ধে মামলা
- শব্দসীমা বজায় রাখা: লাউডস্পিকার ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ডেসিবেল আইন কঠোরভাবে মানতে হবে
- প্রশাসনের ভূমিকা: নজরদারির জন্য প্রতিটি এলাকায় বিশেষ পুলিশ টিম মোতায়েন থাকবে
প্রশাসনিক নজরদারি ও সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া
প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, পুজোর দিনগুলোতে প্রতিটি মণ্ডপ এবং জনবহুল এলাকায় পুলিশের বিশেষ নজরদারি দল কাজ করবে। উচ্চস্বরে বক্স বাজানো বা নিষিদ্ধ ডিজে ব্যবহারের খবর পাওয়া মাত্রই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের এই কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পরিবেশবিদ ও সাধারণ নাগরিকরা।
প্রশাসনিক মহলের মতে, উৎসব মানুষের আনন্দের মাধ্যম, তবে তা যেন অন্যের শান্তি ও স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়। এই নিয়ম সঠিকভাবে কার্যকর করতে ক্লাব কর্তৃপক্ষ ও পুজো কমিটির উদ্যোক্তাদের ইতিমধ্যেই সচেতন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের সহযোগিতা এবং প্রশাসনের কড়া নজরদারির মাধ্যমেই শান্তিপূর্ণ ও শব্দদূষণমুক্ত পরিবেশে উৎসব সম্পন্ন করাই এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য।