ইউনিফর্ম সিভিল কোড: বাংলায় পাঁচ পর্যায়ে জনমত সংগ্রহ শুরু করবে বিশেষজ্ঞ কমিশন
ইউনিফর্ম সিভিল কোড নিয়ে বাংলায় পাঁচ পর্যায়ে জনমত সংগ্রহ শুরু করবে কমিশন
রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (Uniform Civil Code) চালুর প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি এবার জনমত সংগ্রহের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। খসড়া বিলের রূপরেখা চূড়ান্ত করার আগে সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে মতামত ও পরামর্শ সংগ্রহ করতে পাঁচ স্তরের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের নাগরিক, বুদ্ধিজীবী, এবং বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে এই মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত প্রস্তাব তৈরি করা হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
প্রস্তাবিত এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধির খসড়া পর্যালোচনা এবং আইনি দিকগুলি খতিয়ে দেখতে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ কমিটি রূপরেখা তৈরি করছে। বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং সম্পত্তির অধিকারের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে সাধারণ মানুষের ধারণা এবং মতামত জানতে এই পর্যায়ভিত্তিক জনমত সংগ্রহের উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের ভাবনাচিন্তাকে গুরুত্ব দিয়ে আইনি খসড়াকে আরও বেশি বাস্তবসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: রাজ্য সরকারের উদ্যোগে গঠিত ইউসিসি পর্যালোচনা কমিটি বিভিন্ন সামাজিক ও আইনি দিক খতিয়ে দেখতে এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে মোট পাঁচটি পৃথক ধাপে বা পর্যায়ে জনমত সংগ্রহ ও গণশুনানির কাজ পরিচালনা করবে।
- জনমতের বিন্যাস: সমাজ ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের নিয়ে মোট পাঁচ ধাপে মতামত গ্রহণ
- প্রধান আলোচ্য বিষয়: বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, দত্তক গ্রহণ ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত ব্যক্তিগত আইন
- অংশগ্রহণকারী পক্ষ: আইনি বিশেষজ্ঞ, সামাজিক সংগঠন, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ নাগরিক
- কমিটির রূপরেখা: সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায় প্যানেল
জনমত সংগ্রহের পর্যায় ও পরবর্তী পদক্ষেপ
নির্ধারিত পাঁচ পর্যায়ের এই প্রক্রিয়ায় জেলাস্তরে সাধারণ মানুষের মতামত শোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গেও আনুষ্ঠানিক বৈঠক করা হবে। ডিজিটাল পোর্টাল এবং লিখিত আবেদনের মাধ্যমেও নাগরিকদের মতামত জমা নেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে সমাজের প্রতিটি কোণ থেকে স্বচ্ছভাবে ফিডব্যাক সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।
প্রশাসনিক মহলের মতে, এই পর্যায়ভিত্তিক জনমত সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রাপ্ত সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সুপারিশমালা রাজ্য সরকারের কাছে জমা দেবে বিশেষজ্ঞ কমিটি। এর ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে বিধানসভায় আইন প্রণয়নের পরবর্তী ধাপগুলি রূপায়িত হবে। সবমিলিয়ে, একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দীর্ঘমেয়াদী আইনি সংস্কারের পথে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই সুবিন্যস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।