রাজ্যে বাড়ছে ডেঙ্গি আতঙ্ক, আক্রান্তের সংখ্যা চার হাজার পার হতেই বাড়ি বাড়ি সমীক্ষার নির্দেশ প্রশাসনের
রাজ্যে লাফিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গি সংক্রমণ, সংখ্যা ছাড়াল চার হাজার
রাজ্যজুড়ে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গি। স্বাস্থ্য দপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি মরশুমে রাজ্যে মোট ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যেই চার হাজার গণ্ডি পার করে ফেলেছে। বর্ষার আর্দ্র আবহাওয়া এবং জল জমে থাকার প্রবণতার কারণে বিভিন্ন জেলায় সংক্রমণের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি যাতে কোনোভাবেই নাগালের বাইরে চলে না যায়, সেই কারণে তড়িঘড়ি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুরসভা ও পঞ্চায়েতগুলিকে নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করা হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, অবিলম্বে রাজ্যজুড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সার্ভে বা সমীক্ষা শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিটি বাড়ি ঘুরে কোথাও জল জমে আছে কি না, কিংবা মশার লার্ভা জন্ম নিচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখবেন। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং এবং লিফলেট বিতরণের কাজও জোরদার করা হয়েছে। হাসপাতালগুলিতে ডেঙ্গি রোগীদের জন্য বিশেষ বেড এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পর্যাপ্ত বন্দোবস্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৪,০০০ ছাড়িয়ে যাওয়ায় সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রশাসন প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দিয়েছে।
- চলতি মরশুমে রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৪,০০০-এর সীমা অতিক্রম করেছে।
- সংক্রমণ রোধে পৌর এলাকা ও গ্রামীণ অঞ্চলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মশার লার্ভা পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- জমে থাকা জল পরিষ্কার করা এবং মশারি ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দিতে বলা হয়েছে সাধারণ মানুষকে।
সচেতনতাই প্রধান হাতিয়ার
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গি প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় শর্ত হলো সচেতনতা এবং বাড়ি বা আশপাশের চত্বর পরিচ্ছন্ন রাখা। ফ্রিজ, ফুলের টব, এসি বা ছাদের খোলা পাত্রে যেন দীর্ঘ সময় জল জমে না থাকে, সেদিকে কড়া নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সামান্য জ্বর বা উপসর্গ দেখা দিলেই অবিলম্বে রক্ত পরীক্ষা করানোর এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রশাসনের তরফ থেকেও নিয়মিত ব্লিচিং পাউডার ছিটানো এবং ফগিং বা ধোঁয়া দেওয়ার কাজ চালানো হচ্ছে।