গঙ্গার জলস্তর বাড়তেই মালদা-মুর্শিদাবাদে ভয়াবহ নদীভাঙন, আতঙ্কে তীরবর্তী বাসিন্দারা
গঙ্গার জলস্তর বাড়তেই মালদা ও মুর্শিদাবাদে তীব্র নদীভাঙন
বর্ষার মরশুমে গঙ্গার জলস্তর লাগাতার বৃদ্ধি পাওয়ার জেরে পশ্চিমবঙ্গের মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভয়াবহ নদীভাঙন শুরু হয়েছে। নদীর এই রূপ দেখে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদী তীরবর্তী এলাকার হাজার হাজার মানুষ। প্রতিদিন গঙ্গার গ্রাসে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষিজমি, গাছপালা এবং একাধিক পাকা ও কাঁচা বাড়ি। নদীর এই ভাঙন রোধে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান না মেলায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মালদার কালিয়াচক এবং মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জ ও সুতি এলাকার বিভিন্ন অংশে ভাঙনের তীব্রতা সবথেকে বেশি। নদীর জলের তীব্র তোড়ে তীরের মাটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ছে। অনেক পরিবার ইতিমধ্যেই তাদের ভিটাবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বহু মানুষ মাথার ওপর ছাদ হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বা আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রশাসনের তরফ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হলেও ভাঙনের গতি এতটাই বেশি যে তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় মালদা ও মুর্শিদাবাদের নদী তীরবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে, যার ফলে বহু মানুষ সর্বস্বান্ত হয়েছেন।
- মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলায় গঙ্গার ভাঙনে সর্বস্বান্ত নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা।
- জলস্তর বৃদ্ধির ফলে প্রতিদিন তলিয়ে যাচ্ছে কৃষিজমি ও বসতবাড়ি।
- প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে নজরদারি ও ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ভাঙন রোধে প্রশাসনের পদক্ষেপ ও স্থানীয় ক্ষোভ
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সেচ দপ্তর ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে কিছু এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর প্রাথমিক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষার সময় এই ভাঙন শুরু হলে সাময়িক কিছু কাজ করা হয়, কিন্তু বছরের পর বছর ধরে স্থায়ী কোনো প্রতিরক্ষা প্রাচীর বা স্পার তৈরি না করায় সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটেই চলেছে। নদীভাঙনের কবলে পড়ে প্রতিদিন মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নজরে রাখা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির তালিকা তৈরি করে তাদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভাঙন কবলিত অঞ্চলের স্থায়ী সমাধানের জন্য উচ্চপর্যায়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে দ্রুত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা।