অনলাইনে কেনাকাটায় প্রতারণা হলে কী করবেন? টাকা ফেরত ও অভিযোগ করার সম্পূর্ণ নিয়ম

অনলাইনে কেনাকাটায় প্রতারণা হলে কী করবেন? টাকা ফেরত ও অভিযোগ করার সম্পূর্ণ নিয়ম

অনলাইনে কেনাকাটায় প্রতারণা হলে কী করবেন?

বর্তমান ডিজিটাল যুগে অনলাইনে কেনাকাটা বা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ঘরে বসেই পছন্দের পণ্য অর্ডার করার সুবিধা যেমন রয়েছে, তেমনই অনেক সময় বিভিন্ন ভুয়া পেজ বা অসৎ ব্যবসায়ীর কারণে অনলাইন প্রতারণার শিকার হন ক্রেতারা। ভুল পণ্য ডেলিভারি দেওয়া, অর্ডার করার পর পণ্য না পাঠানো কিংবা টাকা নেওয়ার পর যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনা অহরহ ঘটছে। অনলাইনে এই ধরনের জালিয়াতি বা প্রতারণার শিকার হলে আতঙ্কিত না হয়ে সুনির্দিষ্ট আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

অনলাইন শপিংয়ে প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত প্রমাণ সংগ্রহ করা এবং সঠিক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো অত্যন্ত জরুরি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ যথাযথ নিয়মের অভাবে টাকা ফেরত পান না। তবে সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নিলে ন্যাশনাল কনজুমার হেল্পলাইন কিংবা সাইবার ক্রাইম পোর্টালে অভিযোগ জানিয়ে খুইয়ে যাওয়া টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে।

প্রতারণার শিকার হলে প্রথম করণীয় পদক্ষেপ

প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই সমস্ত প্রমাণ বা ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সংরক্ষণ করতে হবে। যেমন—অর্ডারের ইনভয়েস, পেমেন্টের রসিদ, বিক্রেতার সঙ্গে চ্যাট বা কল রেকর্ডিং এবং ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়া পেজের স্ক্রিনশট। এই প্রমাণগুলো পরবর্তীতে অভিযোগ দায়ের করার সময় প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। এছাড়া পেমেন্টটি যদি ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড বা ইউপিআই (UPI)-এর মাধ্যমে করা হয়ে থাকে, তবে অবিলম্বে ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করে ট্রানজাকশন ডিসপিউট বা চার্জব্যাক ফাইল করতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: পেমেন্ট করার পর প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাংকে অভিযোগ জানালে অনেক সময় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে যাওয়া আটকে দেওয়া বা রিভার্স করা সম্ভব হয়।

  • বিক্রেতার পেজ, ওয়েবসাইট, চ্যাট এবং পেমেন্টের সমস্ত স্ক্রিনশট বা রসিদ সংরক্ষণ করুন
  • লেনদেন করা ব্যাংক বা পেমেন্ট অ্যাপে অবিলম্বে যোগাযোগ করে ফ্রড ট্রানজাকশন রিপোর্ট করুন
  • জাতীয় সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল (cybercrime.gov.in)-এ অনলাইনে অভিযোগ দায়ের করুন
  • ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা বা ন্যাশনাল কনজুমার হেল্পলাইন (NCH)-এ অভিযোগ জানান

সরকারি পোর্টালে অভিযোগ ও আইনি প্রতিকার

ভারতে বা অনলাইনে কোনো আর্থিক জালিয়াতি বা শপিং ফ্রড হলে সেন্ট্রাল গভর্ণমেন্টের অফিশিয়াল সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইন নম্বর (১৯৩০) অথবা পোর্টালে অভিযোগ নথিভুক্ত করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব অভিযোগ দায়ের করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পায়। এছাড়া জাতীয় ভোক্তা সহায়তা কেন্দ্রে অভিযোগ করলে প্রতারক ই-কমার্স কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হয়। সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় অভিযোগ জানানোর মাধ্যমেই এই ধরনের প্রতারণা থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।