রাতভর মুষলধারে বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা, সকাল থেকে চরম যানজটে নাকাল নিত্যযাত্রীরা

রাতভর মুষলধারে বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা, সকাল থেকে চরম যানজটে নাকাল নিত্যযাত্রীরা

রাতভর মুষলধারে বৃষ্টিতে জলমগ্ন তিলোত্তমা

রাতের টানা ভারী বর্ষণের কারণে আবার তীব্র জলযন্ত্রণার মুখে পড়ল তিলোত্তমা কলকাতা। উত্তর থেকে দক্ষিণ—শহরের বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা এবং প্রধান সড়কগুলিতে হাঁটু জল জমে যাওয়ার ফলে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। বিশেষ করে সকালের ব্যস্ত সময়ে অফিসগামী ও নিত্যযাত্রীদের চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। গণপরিবহন ব্যবস্থা শ্লথ হয়ে পড়ার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকছে যানবাহন।

কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবেই এই একটানা বৃষ্টিপাত। গঙ্গার জোয়ারের কারণে শহরের প্রধান ড্রেনেজ লকগেটগুলি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হওয়ায় জমা জল দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হয়নি। যার ফলে শহরের নিচু এলাকাগুলিতে জল জমার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: শহরের বৃষ্টি ও যানজট পরিস্থিতির মূল আপডেটসমূহ:

  • উত্তর ও মধ্য কলকাতার সেন্ট্রাল এভিনিউ, কলেজ স্ট্রিট, ঠনঠনিয়া ও আমহার্স্ট স্ট্রিটে ব্যাপক জলজমা।
  • দক্ষিণ কলকাতার ইএম বাইপাস, বেহালা, কসবা এবং পার্ক সার্কাস কানেক্টরে তীব্র যানজট।
  • জল জমে থাকার কারণে ধীরগতিতে চলেছে সরকারি ও বেসরকারি বাস সেবা।
  • কলকাতা পুরসভার পাম্পিং স্টেশনগুলি থেকে জল নিষ্কাশনের কাজ পুরোদমে অব্যাহত।

সকাল থেকেই তীব্র যানজটে নাজেহাল নিত্যযাত্রীরা

জলমগ্ন রাস্তার কারণে সকাল থেকেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে গাড়ি চলাচলের গতি মারাত্মকভাবে কমে যায়। অটো ও ক্যাব চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করায় বিপাকে পড়েন সাধারণ মানুষ। অনেক জায়গায় বাসের সংখ্যা কম থাকায় এবং বাসস্ট্যান্ডগুলিতে জল জমে থাকায় যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা যায়। বেশ কিছু জায়গায় রাস্তায় থাকা বিপজ্জনক গর্ত ঢেকে থাকায় দু চাকার যানবাহন চালাতেও চরম সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ময়দানে নেমেছে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ ও পুরসভার জমা জল নিষ্কাশন বিভাগ। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পুরসভার ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশনগুলির সমস্ত পাম্প চালিয়ে জল নামানোর চেষ্টা চলছে। তবে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দিনভর আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় এখনই এই জলযন্ত্রণা থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি মিলছে না।