২০৪৭ সালের মধ্যে দক্ষিণ ভারতের অর্থনীতি ১০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে, দাবি চন্দ্রবাবু নায়ডুর
দক্ষিণ ভারতের অর্থনীতি নিয়ে বড় লক্ষ্যের কথা চন্দ্রবাবু নায়ডুর
২০৪৭ সালের মধ্যে দক্ষিণ ভারতের সম্মিলিত অর্থনীতিকে ১০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নায়ডু। একটি অর্থনৈতিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির অর্থনৈতিক শক্তি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং মানবসম্পদকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
চন্দ্রবাবু নায়ডুর বক্তব্য অনুযায়ী, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক এবং কেরালা—এই পাঁচ রাজ্য একসঙ্গে পরিকল্পিতভাবে এগোতে পারলে দক্ষিণ ভারতের অর্থনীতির আকার আগামী কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। তাঁর মতে, এই অঞ্চলের প্রযুক্তি, শিল্প, পরিষেবা, বন্দর এবং দক্ষ কর্মশক্তি অর্থনৈতিক বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।
প্রযুক্তি ও স্টার্টআপকে গুরুত্ব
দক্ষিণ ভারতের অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম-এর ভূমিকার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, চেন্নাই এবং অন্যান্য শহরে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক ব্যবসার যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেটিকে আরও বিস্তৃতভাবে কাজে লাগানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর সংস্থা তৈরি হলে কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের সুযোগও বাড়তে পারে।
- ২০৪৭ সালের মধ্যে দক্ষিণ ভারতের অর্থনীতিকে ১০ ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
- অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক ও কেরালার সম্মিলিত অর্থনৈতিক শক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- প্রযুক্তি হাব এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
- সমুদ্রবন্দর ও উন্নত পরিকাঠামোকে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
- দক্ষ মানবসম্পদ এবং রাজ্যগুলির মধ্যে ডিজিটাল সংযোগ বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বন্দর ও পরিকাঠামোর উন্নয়নে জোর
দক্ষিণ ভারতের দীর্ঘ উপকূল এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দরগুলিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, উৎপাদন এবং রপ্তানির পরিমাণ বাড়াতে উন্নত বন্দর পরিকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। একই সঙ্গে রাজ্যগুলির মধ্যে সড়ক, রেল, লজিস্টিক এবং ডিজিটাল যোগাযোগ আরও উন্নত হলে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের গতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
চন্দ্রবাবু নায়ডু দক্ষিণের রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, এক রাজ্যের শক্তিকে অন্য রাজ্যের পরিকাঠামো, দক্ষতা বা বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে বৃহত্তর অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি হতে পারে। এর জন্য আন্তঃরাজ্য যোগাযোগ এবং ডিজিটাল পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করা গুরুত্বপূর্ণ।
দক্ষ মানবসম্পদ হতে পারে বড় শক্তি
দক্ষ কর্মী এবং শিক্ষিত মানবসম্পদ দক্ষিণ ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তথ্যপ্রযুক্তি, উৎপাদন, স্বাস্থ্য পরিষেবা, গবেষণা এবং অন্যান্য আধুনিক শিল্পে দক্ষ কর্মীদের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। তাই ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হলে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি আরও বাড়তে পারে।
২০৪৭ সালের লক্ষ্য সামনে রেখে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগের পরিবেশ শক্তিশালী করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। চন্দ্রবাবু নায়ডুর ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য মূলত এই আঞ্চলিক সম্ভাবনাগুলিকে একত্রিত করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক বৃদ্ধির একটি বৃহত্তর রূপরেখার দিকেই ইঙ্গিত করছে।