যমুনার প্লাবনভূমিতে বেআইনি নির্মাণ রুখতে কেন্দ্রকে NGT-র নোটিশ, নদী অববাহিকা সুরক্ষায় কড়া নির্দেশ

যমুনার প্লাবনভূমিতে বেআইনি নির্মাণ রুখতে কেন্দ্রকে NGT-র নোটিশ, নদী অববাহিকা সুরক্ষায় কড়া নির্দেশ

যমুনার প্লাবনভূমিতে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কড়া NGT

দিল্লির যমুনা নদীর অববাহিকা এবং প্লাবনভূমিতে বেআইনি নির্মাণ ও পরিবেশগত ক্ষতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে কড়া অবস্থান নিয়েছে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (NGT)। নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ও জলপ্রবাহ রক্ষা করার পাশাপাশি যমুনা-সহ বৃহত্তর গঙ্গা অববাহিকার বাস্তুতন্ত্র সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে পরিবেশ সংক্রান্ত এই বিচারিক প্রতিষ্ঠান।

যমুনার প্লাবনভূমি নদীর স্বাভাবিক জলধারণ, বন্যার জল ছড়িয়ে পড়া এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই এলাকায় অপরিকল্পিত বা বেআইনি নির্মাণ হলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ এবং জল নিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। সেই কারণেই প্লাবনভূমিতে নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়টি পরিবেশ সুরক্ষার দিক থেকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রকগুলিকে নোটিশ

যমুনা অববাহিকার পরিবেশগত পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক এবং জলশক্তি মন্ত্রককে নোটিশ পাঠিয়েছে NGT। নদী অববাহিকার বাস্তুতন্ত্র রক্ষা এবং পরিবেশের ক্ষতি কমানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী, সেই বিষয়টি সামনে এসেছে এই পদক্ষেপে।

নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা তৈরি করতে পারে এমন বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশগত নিয়ম লঙ্ঘন করে তৈরি হওয়া নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

  • যমুনার প্লাবনভূমিতে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে NGT কড়া অবস্থান নিয়েছে।
  • কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক ও জলশক্তি মন্ত্রককে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
  • নদীর স্বাভাবিক গতিপথ এবং জলপ্রবাহ রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
  • পরিবেশগত নিয়ম লঙ্ঘনকারী নির্মাণ চিহ্নিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
  • যমুনা অববাহিকার পাশাপাশি বৃহত্তর গঙ্গা অববাহিকার বাস্তুতন্ত্র রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

প্লাবনভূমি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

নদীর প্লাবনভূমি শুধু নদীর অতিরিক্ত জল ধারণের জায়গা নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র। বর্ষার সময়ে নদীর জলস্তর বেড়ে গেলে এই বিস্তীর্ণ এলাকা অতিরিক্ত জল ধারণে সাহায্য করে। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ জলের পুনর্ভরণ এবং বিভিন্ন জলজ ও স্থলজ প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবেও প্লাবনভূমির ভূমিকা রয়েছে। ফলে এই এলাকায় অতিরিক্ত নির্মাণ নদীর পরিবেশগত ভারসাম্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর প্রাকৃতিক এলাকা যত বেশি দখল ও নির্মাণের আওতায় আসে, বৃষ্টির জল ও নদীর অতিরিক্ত জল স্বাভাবিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তত কমে যায়। এর ফলে জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই নদী ও তার সংলগ্ন পরিবেশ রক্ষায় পরিকল্পিত ভূমি ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ।

বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে নজরদারি

যমুনার প্লাবনভূমিতে পরিবেশগত নিয়ম মেনে নির্মাণ হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

NGT-র এই নোটিশের মাধ্যমে যমুনা নদী এবং তার প্লাবনভূমি রক্ষার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং বেআইনি নির্মাণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে সমগ্র গঙ্গা অববাহিকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।