GIS ম্যাপিংয়ে বদলাচ্ছে জাতীয় পরিকাঠামো পরিকল্পনা, গতিশক্তি প্ল্যানে একসঙ্গে ১২০০-র বেশি ডেটা

GIS ম্যাপিংয়ে বদলাচ্ছে জাতীয় পরিকাঠামো পরিকল্পনা, গতিশক্তি প্ল্যানে একসঙ্গে ১২০০-র বেশি ডেটা

GIS ম্যাপিংয়ে পরিকাঠামো পরিকল্পনায় নতুন দিশা

দেশের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন পরিকল্পনাকে আরও সমন্বিত ও তথ্যনির্ভর করতে কেন্দ্রীয় সরকার পিএম গতিশক্তি ন্যাশনাল মাস্টার প্ল্যান-এর আওতায় জিআইএস বা ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন পরিকাঠামো ও ভৌগোলিক তথ্যকে একই প্ল্যাটফর্মে এনে বড় প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন আরও কার্যকর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

আগে কোনও বড় পরিকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা করতে বিভিন্ন দফতর থেকে আলাদা আলাদা তথ্য সংগ্রহ করতে হত। রাস্তা, রেলপথ, জমি, বনাঞ্চল, শিল্পাঞ্চল বা অন্যান্য পরিকাঠামোর তথ্য এক জায়গায় না থাকায় পরিকল্পনা তৈরির ক্ষেত্রে সময় ও সমন্বয়ের সমস্যা দেখা দিতে পারত। GIS-ভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সেই ব্যবস্থাকে অনেক বেশি সমন্বিত করার সুযোগ তৈরি করেছে।

এক প্ল্যাটফর্মে ১২০০-র বেশি ডেটা লেয়ার

পিএম গতিশক্তির ডিজিটাল ব্যবস্থায় দেশের বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যকে একসঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সড়কপথ, রেলপথ, বনভূমি, শিল্পাঞ্চল এবং বিভিন্ন পরিকাঠামো সংক্রান্ত তথ্য। সব মিলিয়ে ১২০০টিরও বেশি ডেটা লেয়ার একই ডিজিটাল পরিবেশে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

  • দেশের সড়ক ও যোগাযোগ পরিকাঠামোর তথ্য যুক্ত করা হয়েছে।
  • রেলপথ সম্পর্কিত তথ্য GIS প্ল্যাটফর্মে দেখা যায়।
  • বনভূমি ও বিভিন্ন ভৌগোলিক এলাকার তথ্য পরিকল্পনায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
  • শিল্পাঞ্চল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর তথ্য একত্রিত করা হয়েছে।
  • বিভিন্ন ডেটা লেয়ার একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে প্রকল্প পরিকল্পনা করা সম্ভব হচ্ছে।

বড় প্রকল্পের পরিকল্পনায় কী সুবিধা হবে?

GIS ম্যাপিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাগুলির একটি হল প্রকল্পের সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে আগে থেকেই বিস্তারিত ধারণা পাওয়া। কোনও নতুন রাস্তা, রেললাইন বা শিল্প প্রকল্পের পরিকল্পনা করার সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন ভৌগোলিক ও পরিকাঠামোগত তথ্য একই জায়গায় দেখা গেলে প্রকল্পের সম্ভাব্য সমস্যা আগে থেকেই চিহ্নিত করা সম্ভব হতে পারে।

জমি অধিগ্রহণের জটিলতা কমানো এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। কোনও প্রকল্পের জন্য নির্দিষ্ট জমি বেছে নেওয়ার আগে সেই এলাকার বনাঞ্চল, বিদ্যমান পরিকাঠামো এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য বিশ্লেষণ করা সম্ভব হলে পরবর্তী পর্যায়ে পরিবর্তনের প্রয়োজন কমতে পারে।

আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর লক্ষ্য

বড় সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একাধিক দফতরের অনুমোদন ও তথ্যের প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন সংস্থার তথ্য আলাদা জায়গায় থাকলে পরিকল্পনা তৈরিতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। গতিশক্তির ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বিভিন্ন তথ্যকে একত্রিত করে সেই সমন্বয়ের কাজকে সহজ করার চেষ্টা করছে।

একটি প্রকল্পের সম্ভাব্য রুট বা অবস্থান সম্পর্কে আগেই বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করা গেলে পরিকল্পনার পর্যায়েই অনেক সমস্যা চিহ্নিত করা সম্ভব হতে পারে। এর ফলে প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার পর পরিবর্তন বা পুনরায় পরিকল্পনার প্রয়োজন কমার সম্ভাবনা থাকে।

লজিস্টিক খরচ কমানোর সম্ভাবনা

দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পরিবহণ ও লজিস্টিক ব্যবস্থার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। কোনও পরিকাঠামো প্রকল্প এমনভাবে পরিকল্পনা করা গেলে যাতে সড়ক, রেল এবং শিল্পাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও কার্যকর হয়, তাহলে পণ্য পরিবহণের সময় ও খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। এই কারণেই গতিশক্তি প্রকল্পে বিভিন্ন পরিবহণ ও পরিকাঠামো সংক্রান্ত তথ্যকে একসঙ্গে বিশ্লেষণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে শিল্পাঞ্চল, উৎপাদন কেন্দ্র এবং পরিবহণ নেটওয়ার্কের মধ্যে যোগাযোগ উন্নত হলে পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে আরও কার্যকর রুট নির্বাচন করা সম্ভব হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব দেশের লজিস্টিক দক্ষতার উপর পড়তে পারে।

ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর জাতীয় পরিকল্পনা

পিএম গতিশক্তি ন্যাশনাল মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে পরিকাঠামো পরিকল্পনাকে আরও তথ্যনির্ভর ও সমন্বিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। GIS ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ভৌগোলিক ও পরিকাঠামোগত তথ্য একসঙ্গে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সরকারি প্রকল্পের পরিকল্পনা আরও নির্ভুলভাবে করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

দেশের ভবিষ্যৎ রাস্তা, রেল, শিল্প ও অন্যান্য পরিকাঠামো উন্নয়নে এই ধরনের ডিজিটাল পরিকল্পনা ব্যবস্থার ব্যবহার আরও বাড়লে প্রকল্প গ্রহণের আগে সম্ভাব্য সমস্যা শনাক্ত করা সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে সময়, জমি ব্যবস্থাপনা এবং লজিস্টিক খরচের ক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হবে।