উত্তরবঙ্গের ৫ জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, দার্জিলিং-কালিম্পংয়ে ধসের আশঙ্কা

উত্তরবঙ্গের ৫ জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, দার্জিলিং-কালিম্পংয়ে ধসের আশঙ্কা

উত্তরবঙ্গের ৫ জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ফের ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় কয়েকটি জায়গায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ২১ আগস্ট সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এই পাঁচ জেলাকেই বিশেষভাবে নজরে রাখা হয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পাহাড়ি এলাকাসহ পাঁচটি জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা করা হয়েছে। টানা বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধস এবং রাস্তায় সমস্যা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে ধসের আশঙ্কা

পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টির সবচেয়ে বড় আশঙ্কাগুলির মধ্যে রয়েছে ভূমিধস। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের বিভিন্ন পাহাড়ি রাস্তা বর্ষার সময়ে ধসপ্রবণ হয়ে ওঠে। ফলে টানা বা প্রবল বৃষ্টির কারণে মাটি নরম হয়ে গেলে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কোথাও কোথাও রাস্তা বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে পাহাড়ি এলাকায় দৃশ্যমানতাও কমে যেতে পারে। বিশেষ করে পর্যটকদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে যাতায়াত না করার পরামর্শও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: বিশেষ বুলেটিনে উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে কয়েকটি জায়গায় এই মাত্রার বৃষ্টি হতে পারে। অন্য জেলাগুলিতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

  • দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
  • কয়েকটি জায়গায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।
  • দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
  • তিস্তা, তোর্সা ও জলঢাকা-সহ উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলির জলস্তরের উপর নজর রাখা হচ্ছে।
  • পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং অপ্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নদীর জলস্তর বৃদ্ধির সম্ভাবনায় নজরদারি

টানা বৃষ্টির ফলে উত্তরবঙ্গের নদীগুলির জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা, তোর্সা ও জলঢাকা নদীর জলস্তরের উপর নজর রাখা হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকায় প্রবল বৃষ্টির জল দ্রুত নদীতে নামলে নিম্নাঞ্চলে জল পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে।

নদী তীরবর্তী এবং নিচু এলাকার বাসিন্দাদের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। জলস্তর দ্রুত বাড়লে স্থানীয় প্রশাসনের তরফে প্রয়োজন অনুযায়ী সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে নদীর জল বিপদসীমা অতিক্রম করবে কি না, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টির পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট জলাধার ও নদীগুলির পরিস্থিতির উপর।

বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়ারও পূর্বাভাস

ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ এবং কোথাও কোথাও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনার কথাও বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে। খোলা মাঠ বা উন্মুক্ত স্থানে বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকায় খারাপ আবহাওয়ার সময় নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পাহাড় ও ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির প্রভাবে দৈনন্দিন যাতায়াতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। পর্যটকদের বিশেষ করে পাহাড়ি সফরের আগে রাস্তার পরিস্থিতি, আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং প্রশাসনের নির্দেশ জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

পর্যটক ও বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ

বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে থাকা পর্যটকদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনে পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াত, ধসপ্রবণ রাস্তা ব্যবহার বা প্রবল বৃষ্টির সময়ে নদীর কাছাকাছি যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। পরিস্থিতি দ্রুত বদলালে প্রশাসনের পরবর্তী নির্দেশ মেনে চলার কথাও বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসের কারণে আগামী কয়েক দিন আবহাওয়ার দিকে বিশেষ নজর থাকবে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা এবং গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলির জলস্তর বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকায় প্রশাসনিক নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দা এবং পর্যটকদের সর্বশেষ আবহাওয়া সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।