পুরুলিয়ায় বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু, ৮ আহত; মাওবাদী দমনে শুরু ‘মিশন আকাশ’
পুরুলিয়ায় বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু
১২ আগস্ট ২০২৬, বুধবার পুরুলিয়ায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু এবং ৮ জন আহত হয়েছেন। রঘুনাথপুর ও হুড়া থানা এলাকার ধানক্ষেত এবং মাঠে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মৃতদের মধ্যে ২ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা রয়েছেন।
ধানক্ষেত ও মাঠে কাজ করার সময় বজ্রাঘাত
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃষ্টির মধ্যে মাঠে কাজ করার সময় আচমকাই বজ্রপাত হয়। ঘটনায় মোট ৮ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।
মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য
বজ্রপাতে মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে রাজ্য সরকারের তরফে প্রতিটি পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
মাওবাদী দমনে ‘মিশন আকাশ’ শুরু
বজ্রপাতের ঘটনার পাশাপাশি পুরুলিয়ার জঙ্গলমহল এলাকায় মাওবাদী দমনে শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান। ঝাড়খণ্ড সীমান্ত সংলগ্ন বান্দোয়ান এলাকায় ‘মিশন আকাশ’ নামে যৌথ হাই-টেক ড্রোন অপারেশন শুরু করেছে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
ড্রোনে নজরদারি, জঙ্গলে মাওবাদী গতিবিধির খোঁজ
মোস্ট-ওয়ান্টেড মাওবাদী স্কোয়াডের গতিবিধি রুখতেই এই বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে পুরুলিয়া পুলিশ, CRPF এবং CoBRA বাহিনী যৌথভাবে অংশ নিয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি ও জঙ্গল এলাকায় মাটিতে সরাসরি প্রবেশের ঝুঁকি কমিয়ে নজরদারি চালাতে আধুনিক থার্মাল ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
ল্যান্ডমাইন ও IED-এর ঝুঁকি এড়াতে প্রযুক্তির ব্যবহার
জঙ্গলমহলের দুর্গম এলাকায় মাওবাদীদের ল্যান্ডমাইন বা IED ট্র্যাপ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তাই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ঝুঁকি কমাতে আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমে সন্দেহজনক গতিবিধি ও এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাতের অন্ধকারেও নজরদারি চালানোর জন্য থার্মাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
পুরুলিয়া-ঝাড়খণ্ড সীমান্তে হাই অ্যালার্ট
অভিযানকে কেন্দ্র করে পুরুলিয়া ও ঝাড়খণ্ড সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে কড়া নাকা চেকিং চলছে এবং সন্দেহজনক যানবাহন ও ব্যক্তিদের উপর নজর রাখা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
একদিকে বজ্রপাত, অন্যদিকে নিরাপত্তা অভিযান
পুরুলিয়ায় একই দিনে একদিকে বজ্রপাতে প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, অন্যদিকে জঙ্গলমহলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষকে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে না থাকার পাশাপাশি প্রশাসনের নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ১২ আগস্ট ২০২৬-এ পুরুলিয়ায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু ও ৮ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে বান্দোয়ান ও ঝাড়খণ্ড সীমান্ত সংলগ্ন জঙ্গলমহলে মাওবাদী দমনে পুলিশ, CRPF ও CoBRA-র যৌথ উদ্যোগে ‘মিশন আকাশ’ নামে ড্রোন নজরদারি অভিযান শুরু হয়েছে।