উত্তরবঙ্গে আমূলের মেগা ফ্যাক্টরি, ১৫ একর জমি চিহ্নিত করে বড় ঘোষণা
উত্তরবঙ্গে আমূলের মেগা ফ্যাক্টরির ঘোষণা
উত্তরবঙ্গের শিল্প ও দুগ্ধ পরিকাঠামোর উন্নয়নে আমূলের একটি মেগা ফ্যাক্টরি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গে এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ১৫ একর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে এবং দ্রুত সেই জমি হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। জলপাইগুড়ি সফরকালে এই প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়।
উত্তরবঙ্গে তৈরি হবে মেগা আইসক্রিম ফ্যাক্টরি
প্রস্তাবিত প্রকল্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো মেগা আইসক্রিম ফ্যাক্টরি। উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গেও আরও ১৫ একর জমি আমূলকে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে রাজ্যে আমূলের উৎপাদন ও সরবরাহ পরিকাঠামো আরও বিস্তৃত হতে পারে।
চা শিল্প ও ফুড প্রসেসিংয়ে নতুন পরিকল্পনা
দুগ্ধজাত পণ্যের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে চা বাগান খোলার বিষয়েও আমূল পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের স্থানীয় কৃষিপণ্যকে কেন্দ্র করে আরও ফুড প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। মালদার লিচু, আনারস, ভুট্টা এবং তুলাইপাঞ্জি চালের মতো পণ্য প্রক্রিয়াকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তৈরি হতে পারে বিপুল কর্মসংস্থান
নতুন শিল্প প্রকল্পগুলির মাধ্যমে উত্তরবঙ্গে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর পাশাপাশি রাজ্যের বাইরে কর্মরত বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের নিজেদের রাজ্যে ফিরে এসে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতের সম্প্রসারণ হলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
দুগ্ধচাষীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প
দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের ১৪টি জেলার প্রায় ১.২ লাখ নারী দুগ্ধচাষী আমূলের সমবায় নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। উত্তরবঙ্গে নতুন প্ল্যান্ট চালু হলে এই অঞ্চলের দুগ্ধচাষী এবং গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত মানুষের জন্য নতুন বাজার ও আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
হাওড়ার প্রকল্পের পর উত্তরবঙ্গে নতুন বিনিয়োগ
এর আগে জুলাই মাসে হাওড়ার সাঁকরাইলে আমূলের একটি বড় দই উৎপাদনকারী প্ল্যান্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের এই প্রকল্পের পর উত্তরবঙ্গে নতুন ফ্যাক্টরি তৈরির উদ্যোগ রাজ্যে আমূলের শিল্প সম্প্রসারণের ধারাকে আরও এগিয়ে নিতে পারে।
উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
আমূলের নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দুগ্ধ শিল্পের পাশাপাশি কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহণ এবং স্থানীয় সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়তে পারে। স্থানীয় কৃষিপণ্যের জন্য নতুন বাজার তৈরি হলে উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনীতিও উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: উত্তরবঙ্গে আমূলের মেগা ফ্যাক্টরি তৈরির জন্য ১৫ একর জমি চিহ্নিত করার কথা জানানো হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গেও আরও ১৫ একর জমি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দুগ্ধজাত পণ্যের পাশাপাশি চা এবং বিভিন্ন কৃষিপণ্যভিত্তিক ফুড প্রসেসিং শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।