হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে কাদা-পাথর ও জুতো ছোড়ার অভিযোগ, উত্তাল রাজ্য রাজনীতি
হালিশহরে মমতার গাড়িবহর ঘিরে বিক্ষোভ
৯ আগস্ট ২০২৬, রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িবহরকে ঘিরে তীব্র বিক্ষোভ দেখা যায়। পুলিশি হেফাজতে মৃত তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা, পাথর, জুতো ও অন্যান্য সামগ্রী ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
পুলিশ হেফাজতে বিরজু কেওটের মৃত্যু
ঘটনার সূত্রপাত তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওটের পুলিশ লক-আপে মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। তোলাবাজির অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরে পুলিশি হেফাজতে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হয়। এই মৃত্যুর প্রতিবাদেই এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।
মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে কী ছোড়া হয়?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি এলাকায় প্রবেশ করার সময় সেখানে বহু মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভকারীদের একাংশ “চোর চোর” স্লোগান দেন বলে অভিযোগ। এরপর গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল, জুতো এবং জলের বোতল ছোড়া হয়। গাড়ির কাচেও কাদা লেপে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ মমতার
ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এটিকে প্রাণঘাতী হামলা বলে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, গাড়ির কাচ বন্ধ না থাকলে তিনি গুরুতর আহত হতে পারতেন। একই সঙ্গে তিনি ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা না থাকার অভিযোগও তোলেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
তৃণমূলের অভিযোগ, হত্যার চক্রান্ত
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে সুপরিকল্পিত হামলা বলে দাবি করা হয়েছে। দলের অভিযোগ, একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এমন ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর। ঘটনায় রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তাঁদের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়েছে।
বিজেপির পাল্টা বক্তব্য
অন্যদিকে বিজেপি এই হামলার নিন্দা করলেও ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, এটি কোনও রাজনৈতিক দলের পরিকল্পিত হামলা নয়। পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে “স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষ” তৈরি হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু নিয়ে নতুন রাজনৈতিক সংঘাত
বিরজু কেওটের মৃত্যু এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িবহরকে ঘিরে বিক্ষোভ—দুই ঘটনাই এখন রাজ্যের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। একদিকে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর তদন্ত এবং অন্যদিকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে ঘটনাটির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুই দিকই গুরুত্ব পেয়েছে।
ঘটনার তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ
হালিশহরের এই ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিল, হামলাটি পরিকল্পিত ছিল কি না এবং পুলিশি নিরাপত্তায় কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে। একই সঙ্গে বিরজু কেওটের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়েও তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: হালিশহরে বিরজু কেওটের পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর পর তৈরি হওয়া উত্তেজনার মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িবহর বিক্ষোভের মুখে পড়ে। গাড়িতে কাদা, পাথর, জুতো ও অন্যান্য সামগ্রী ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হামলা বললেও বিজেপি একে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ বলে দাবি করেছে।