সংসদ চত্বরে নজিরবিহীন মুখোমুখি সংঘাত, প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে বিরোধী-শাসক শিবিরে তীব্র বাদানুবাদ

সংসদ চত্বরে নজিরবিহীন মুখোমুখি সংঘাত, প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে বিরোধী-শাসক শিবিরে তীব্র বাদানুবাদ

সংসদ চত্বরে শাসক-বিরোধী সাংসদদের মুখোমুখি সংঘাত

১২ আগস্ট ২০২৬, বুধবার দিল্লির সংসদ চত্বরের মকর দ্বারের সামনে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ঝাড়খণ্ডে ছাত্রদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সাংসদদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও নজিরবিহীন মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়।

প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে বিরোধীদের বিক্ষোভ

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাংসদরা মকর দ্বারের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, দেশজুড়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা কোটি কোটি পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলছে।

ঝাড়খণ্ডে ছাত্রদের ওপর লাঠিচার্জের প্রতিবাদ

বিরোধী সাংসদরা ঝাড়খণ্ডে ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জেরও তীব্র প্রতিবাদ জানান। তাঁদের দাবি, ছাত্রদের দাবি নিয়ে সরকারের আরও সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন।

পাল্টা বিক্ষোভে বিজেপি সাংসদরা

বিরোধীদের বিক্ষোভের মাঝেই বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সাংসদরা পাল্টা প্ল্যাকার্ড হাতে মকর দ্বারের সামনে অবস্থান নেন। দুই পক্ষ মুখোমুখি দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতে শুরু করে। বিজেপি সাংসদদের পক্ষ থেকে ‘পরীক্ষা নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করো’ স্লোগান দেওয়া হয়।

সরকারের পাল্টা দাবি

শাসক দলের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে সরকার ইতিমধ্যেই কঠোর আইন প্রণয়ন করেছে এবং বিভিন্ন ঘটনার তদন্ত চলছে। তাদের অভিযোগ, বিরোধীরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সংসদের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত করছে।

সংসদে তৈরি হয় অচলাবস্থা

সংসদ চত্বরে উত্তেজনার প্রভাব অধিবেশনেও পড়ে। লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন শুরু হওয়ার পর বিরোধী সাংসদরা ওয়েলে নেমে হট্টগোল শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই কক্ষের কার্যক্রমই সাময়িকভাবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্থগিত করতে হয়।

প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। সংসদ চত্বরে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভের জেরে এদিনের অধিবেশনেও তার প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।