ভারী বৃষ্টির জেরে জোড়াবাগানে পুরনো বাড়ির একাংশ ধস, মৃত্যু উর্মিলা সাহুর
জোড়াবাগানে পুরনো তিনতলা বাড়ির একাংশ ধসে মৃত্যু
টানা ভারী বৃষ্টির পর উত্তর কলকাতার জোড়াবাগান থানা এলাকার মালোপাড়ায় একটি পুরনো তিনতলা বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ১৮ আগস্ট ভোরে ৩১, ব্রজদুলাল স্ট্রিটের ওই বাড়ির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে উর্মিলা সাহু নামে এক মহিলার মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় বাড়ির ভিতরে থাকা একাধিক বাসিন্দা আটকে পড়েছিলেন বলে জানা যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে ধ্বংসস্তূপের নীচে ও বিপজ্জনক অংশে আটকে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদে বের করে আনা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উদ্ধার হওয়া ও আহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে, তবে একাধিক বাসিন্দাকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনায় একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।
ভোরের দিকে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে বাড়ির অংশ
ঘটনাটি মঙ্গলবার ভোরের দিকে ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়িটি অত্যন্ত পুরনো ও জরাজীর্ণ ছিল। টানা বৃষ্টির জেরে কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে পড়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। তবে বাড়ি ধসের সঠিক কারণ কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে শুধুমাত্র বৃষ্টিকেই দুর্ঘটনার একমাত্র কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব নয়।
ধসের সময় বাড়ির মধ্যে থাকা বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়ায় উর্মিলা সাহু ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েন। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: উদ্ধার অভিযানে একাধিক বাসিন্দাকে নিরাপদে বের করে আনা হয়েছে। ঘটনার পর বাড়িটির বাকি অংশের স্থিতিশীলতাও পরীক্ষা করা হয় এবং আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
- ১৮ আগস্ট ভোরে জোড়াবাগানের মালোপাড়ায় পুরনো তিনতলা বাড়ির একাংশ ধসে পড়ে।
- ঘটনায় উর্মিলা সাহু নামে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে।
- পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বাসিন্দাদের বের করে আনে।
- বাড়িটি দীর্ঘদিনের পুরনো ও জরাজীর্ণ ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।
- টানা ভারী বৃষ্টির পর বাড়িটির কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আগেই বিপজ্জনক ঘোষণা করা হয়েছিল বাড়িটি
দুর্ঘটনার পর সামনে এসেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। কলকাতা পুরসভা বা KMC ওই বাড়িটিকে আগেই বিপজ্জনক ও বসবাসের অনুপযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছিল বলে জানা গিয়েছে। বাড়ির মালিক ও বাসিন্দাদের উদ্দেশে প্রয়োজনীয় নোটিশও দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ভবনটি পুরোপুরি খালি করা সম্ভব হয়নি।
পুরসভার বক্তব্য অনুযায়ী, বিপজ্জনক বাড়ি খালি করানোর ক্ষেত্রে অনেক সময় মালিক ও বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ, আইনি জটিলতা এবং পুনর্বাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া জটিল হয়ে ওঠে। জোড়াবাগানের এই দুর্ঘটনার পর সেই সমস্যাগুলি নতুন করে সামনে এসেছে।
কলকাতার জরাজীর্ণ বাড়ি নিয়ে ফের প্রশ্ন
বর্ষার মরসুমে কলকাতার বহু পুরনো ও জরাজীর্ণ বাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে বারবার উদ্বেগ দেখা দেয়। প্রবল বৃষ্টি হলে পুরনো ভবনের দেওয়াল, ছাদ এবং অন্যান্য কাঠামো দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে শতাব্দীপ্রাচীন বা দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া বাড়িতে বসবাসকারী মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের পাশাপাশি বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
জোড়াবাগানের ঘটনায় এক মহিলার মৃত্যুর পর শহরের বিপজ্জনক বাড়িগুলির তালিকা, পুরসভার নোটিশ এবং প্রয়োজনীয় মেরামত বা উচ্ছেদ প্রক্রিয়া নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাড়িটির বিপজ্জনক অংশ দ্রুত সরানো এবং আশপাশের ভবনগুলির অবস্থাও খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্ষায় সতর্কতার বার্তা
এই দুর্ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিল, বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত ভবনে বসবাস কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে টানা ভারী বৃষ্টির সময়ে পুরনো বাড়িতে ফাটল, দেওয়াল থেকে অংশ খসে পড়া, ছাদের দুর্বলতা বা কাঠামো নড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানো জরুরি।
জোড়াবাগানের মর্মান্তিক ঘটনায় একজনের প্রাণহানির পর এখন নজর রয়েছে তদন্ত এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকে। শহরের অন্যান্য জরাজীর্ণ ও বিপজ্জনক বাড়িগুলির ক্ষেত্রেও সময়মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।