জোড়াবাগানে বাড়ি ভেঙে বিপর্যয়: টানা বৃষ্টির জেরে উত্তর কলকাতায় ২০০ বছরের পুরনো বহুতল ধস, মৃত ১

জোড়াবাগানে বাড়ি ভেঙে বিপর্যয়: টানা বৃষ্টির জেরে উত্তর কলকাতায় ২০০ বছরের পুরনো বহুতল ধস, মৃত ১

টানা বৃষ্টির জেরে উত্তর কলকাতায় বড় বিপর্যয়

টানা ভারী বৃষ্টির জেরে উত্তর কলকাতার জোড়াবাগান এলাকায় একটি প্রায় ২০০ বছরের পুরনো তিনতলা বাড়ির একাংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ১৮ আগস্ট ভোরের এই মর্মান্তিক ঘটনায় এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে একাধিক বাসিন্দা আটকে পড়েছিলেন বলে জানা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ, দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। :contentReference[oaicite:0]{index=0}

ভোরের বিকট শব্দে আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়

জানা গিয়েছে, জোড়াবাগানের ব্রজদুলাল স্ট্রিট এলাকায় মঙ্গলবার ভোর প্রায় ৫টা নাগাদ বাড়িটির একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সেই সময় বাড়ির ভিতরে একাধিক মানুষ ছিলেন। ধসের পরে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। :contentReference[oaicite:1]{index=1}

এক মহিলার মৃত্যু, উদ্ধার বহু বাসিন্দা

ধসের ঘটনায় এক মহিলা ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েন এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উদ্ধার হওয়া ও আহতের সংখ্যা নিয়ে সামান্য পার্থক্য রয়েছে—কোথাও ১৫ জন আহতের কথা বলা হয়েছে, আবার অন্য রিপোর্টে ১৯ জনকে উদ্ধার করার তথ্য এসেছে। তবে এক জনের মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত এবং উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বহু বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। :contentReference[oaicite:2]{index=2}

বাড়িটি আগেই বিপজ্জনক ঘোষণা করেছিল পুরসভা

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, জোড়াবাগানের ওই পুরনো বাড়িটিকে আগেই বিপজ্জনক বা বসবাসের অনুপযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছিল কলকাতা পুরসভা। তা সত্ত্বেও সেখানে একাধিক পরিবার বসবাস করছিলেন বলে জানা গিয়েছে। বাড়িটির বয়স প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ বছরের মধ্যে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে এবং কাঠামোতে বড় ফাটলও ছিল। :contentReference[oaicite:3]{index=3}

টানা বৃষ্টিই কি ধসের মূল কারণ?

ধসের সঠিক কারণ নিয়ে তদন্ত চললেও, টানা বৃষ্টির জেরে জরাজীর্ণ কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে পড়াই প্রাথমিকভাবে অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। কলকাতা পুরসভার এক ইঞ্জিনিয়ারও প্রবল বৃষ্টিকে ধসের তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে সন্দেহের কথা জানিয়েছেন। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে চূড়ান্তভাবে ধসের কারণ নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। :contentReference[oaicite:4]{index=4}

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান

ঘটনার খবর পাওয়ার পর কলকাতা পুলিশ, দমকল, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দল এবং NDRF-এর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ আটকে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। বাসিন্দাদের একে একে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। :contentReference[oaicite:5]{index=5}

পুরনো ও বিপজ্জনক বাড়ি নিয়ে ফের প্রশ্ন

এই দুর্ঘটনা ফের কলকাতার পুরনো ও জরাজীর্ণ বাড়িগুলির নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। কলকাতা পুরসভার হিসাবে শহরে দুই হাজারের বেশি বাড়ি বিপজ্জনক বা অসুরক্ষিত হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে, যার মধ্যে বহু কাঠামো বর্ষার সময় বিশেষ ঝুঁকিতে থাকে। জোড়াবাগানের এই ঘটনা সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। :contentReference[oaicite:6]{index=6}

এক নজরে জোড়াবাগান বাড়ি ধস

  • স্থান: ব্রজদুলাল স্ট্রিট, জোড়াবাগান, উত্তর কলকাতা
  • ঘটনার তারিখ: ১৮ আগস্ট ২০২৬
  • সময়: ভোর প্রায় ৫টা
  • বাড়ির ধরন: পুরনো তিনতলা বাড়ি
  • বাড়ির আনুমানিক বয়স: প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ বছর
  • মৃত: ১ জন মহিলা
  • উদ্ধার অভিযান: একাধিক বাসিন্দাকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে
  • বাড়ির অবস্থা: আগেই বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত ছিল
  • সম্ভাব্য কারণ: টানা বৃষ্টিতে জরাজীর্ণ কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে পড়া
  • তদন্ত: ধসের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে

শেষ কথা

টানা বৃষ্টির মধ্যে জোড়াবাগানে প্রায় দুই শতাব্দী পুরনো বাড়ির একাংশ ধসে এক মহিলার মৃত্যু উত্তর কলকাতায় গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। বাড়িটি আগে থেকেই বিপজ্জনক ঘোষণা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনা ফের প্রশ্ন তুলছে—বর্ষার সময় শহরের জরাজীর্ণ ও বিপজ্জনক বাড়িগুলিতে বসবাসকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী আরও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন?