বেহালায় সাইবার প্রতারণার নয়া ছক: ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার সেজে বাসিন্দার সোনার চেন-আংটি হাতিয়ে নিল দুষ্কৃতীরা

বেহালায় সাইবার প্রতারণার নয়া ছক: ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার সেজে বাসিন্দার সোনার চেন-আংটি হাতিয়ে নিল দুষ্কৃতীরা

বেহালায় প্রতারণার নয়া ছক

কলকাতার বেহালায় ফের প্রতারণার নতুন কৌশল সামনে এল। নিজেদের ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার পরিচয় দিয়ে এক বাসিন্দার কাছ থেকে সোনার চেন ও আংটি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ১৯ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, শকুন্তলা পার্কের বাসিন্দা মৃগাঙ্ক গঙ্গোপাধ্যায় গাড়ি করে বাড়ি ফেরার সময় এই প্রতারণার শিকার হন।

রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে পরিচয় ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার হিসেবে

সোমবার দুপুরে বেহালায় গাড়ি করে বাড়ি ফেরার সময় মোটরবাইকে থাকা দুই ব্যক্তি তাঁর পথ আটকায়। তাঁরা নিজেদের ‘ক্রাইম ব্রাঞ্চ’-এর অফিসার বলে পরিচয় দেয়। এরপর এলাকায় সদ্য খুন হয়েছে বলে মিথ্যা দাবি করে ওই ব্যক্তিকে ভয় দেখানো হয়। বলা হয়, গলায় সোনার চেন বা হাতে আংটি পরে ঘোরাফেরা করলে তাঁর উপরেও হামলা হতে পারে।

ভয় দেখিয়ে খুলিয়ে নেওয়া হয় সোনার গয়না

দুই অভিযুক্তের কথায় বিশ্বাস করে মৃগাঙ্ক গঙ্গোপাধ্যায় নিজের গলার সোনার চেন এবং আংটি খুলে ফেলেন। দুষ্কৃতীরা একটি পলিথিনের ব্যাগ দিয়ে গয়না তার মধ্যে রাখতে বলে। শুধু তাই নয়, তাঁর মোবাইল ফোনও ওই ব্যাগে রাখতে বলা হয়। এরপর তাঁরা ব্যাগটি গাড়ির বুটে রেখে দেওয়ার কথা বলে সেটি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।

মিথ্যা ‘খুনের ঘটনা’ দেখিয়ে তৈরি করা হয় আতঙ্ক

প্রতারণার পুরো ঘটনাটির মূল কৌশল ছিল ভয় তৈরি করা। এলাকায় খুন হয়েছে এবং মূল্যবান গয়না পরে রাস্তায় চলাফেরা করা বিপজ্জনক—এই মিথ্যা তথ্য দিয়ে ওই ব্যক্তিকে আতঙ্কিত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বাস্তবে এমন কোনও খুনের ঘটনা ঘটেনি। অর্থাৎ সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করেই গয়না খুলিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

গয়না নিয়ে চম্পট দেয় দুই ব্যক্তি

গয়না ও মোবাইল ফোন ব্যাগে রাখার পর দুই ব্যক্তি সেগুলি নিয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। পরে প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

এটি কি সাইবার ক্রাইম?

ঘটনাটি প্রচলিত অনলাইন সাইবার প্রতারণার মতো নয়। এখানে কোনও ফোন, লিঙ্ক বা অনলাইন লেনদেন ব্যবহার করা হয়নি। বরং পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিক সেজে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে মূল্যবান জিনিস হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাই খবরটি মূলত একটি ইমপারসোনেশন বা ভুয়ো আধিকারিক সেজে প্রতারণার ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কলকাতা পুলিশের সতর্কবার্তা

কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখাও সাধারণ মানুষকে ভুয়ো পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকের পরিচয়ে আসা প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক করে আসছে। পুলিশ, সিবিআই, এনআইএ বা অন্য কোনও তদন্তকারী সংস্থার পরিচয় দিয়ে ভয় দেখিয়ে টাকা বা মূল্যবান জিনিস নেওয়ার চেষ্টা প্রতারণার অংশ হতে পারে। :contentReference[oaicite:1]{index=1}

এমন পরিস্থিতিতে কী করবেন?

  • অপরিচিত কেউ নিজেকে পুলিশ বা ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার বললে আতঙ্কিত হবেন না।
  • রাস্তার মধ্যে ভয় দেখিয়ে সোনার গয়না খুলতে বললে তা মেনে নেবেন না।
  • অপরিচিত ব্যক্তির হাতে মোবাইল, টাকা বা গয়না তুলে দেবেন না।
  • প্রয়োজনে নিকটবর্তী থানায় গিয়ে পরিচয় যাচাই করুন।
  • সাইবার প্রতারণার ঘটনা হলে দ্রুত ১৯৩০ নম্বরে যোগাযোগ করুন। :contentReference[oaicite:2]{index=2}

এক নজরে পুরো ঘটনা

  • স্থান: বেহালা, কলকাতা
  • এলাকা: শকুন্তলা পার্ক
  • ভুক্তভোগী: মৃগাঙ্ক গঙ্গোপাধ্যায়
  • অভিযুক্ত: মোটরবাইকে থাকা দুই ব্যক্তি
  • ভুয়ো পরিচয়: ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার
  • প্রতারণার কৌশল: এলাকায় খুন হয়েছে বলে মিথ্যা ভয় দেখানো
  • লুট: সোনার চেন ও আংটি, সঙ্গে মোবাইল ফোন
  • বর্তমান অবস্থা: ঘটনার তদন্ত চলছে

শেষ কথা

বেহালার এই ঘটনা দেখিয়ে দিল, প্রতারকরা এখন শুধু ফোন বা অনলাইনের মাধ্যমে নয়, সরাসরি রাস্তায় পুলিশি পরিচয় ব্যবহার করেও সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলছে। তাই কেউ নিজেকে ক্রাইম ব্রাঞ্চ বা অন্য কোনও তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিক পরিচয় দিলেই ভয় না পেয়ে আগে তাঁর পরিচয় যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।