ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তিতেও অটুট থাকবে ভারত-রাশিয়া কৌশলগত সম্পর্ক, বার্তা ক্রেমলিনের

ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তিতেও অটুট থাকবে ভারত-রাশিয়া কৌশলগত সম্পর্ক, বার্তা ক্রেমলিনের

ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও অটুট ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি বা BTA নিয়ে আলোচনা চললেও এর কোনও নেতিবাচক প্রভাব ভারত-রাশিয়ার দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কে পড়বে না বলে বার্তা দিয়েছে মস্কো। ক্রেমলিনের মতে, দুই দেশের সম্পর্ক শুধুমাত্র বাণিজ্য বা জ্বালানি নির্ভর নয়; এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক, প্রতিরক্ষা, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা জড়িয়ে রয়েছে।

ভারতের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির প্রশংসা রাশিয়ার

ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন এবং স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের নীতির প্রশংসা করেছে রাশিয়া। মস্কোর বক্তব্য, নয়াদিল্লি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও নিজের জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করে। তাই আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়লেও ভারত-রাশিয়ার বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বে তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম।

ভারত-আমেরিকা BTA ঘিরে শুল্ক ও বাণিজ্য আলোচনা

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমানো এবং আমেরিকার পণ্যের জন্য ভারতীয় বাজার আরও উন্মুক্ত করার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়া থেকে ভারতের জ্বালানি আমদানি নিয়েও ওয়াশিংটনের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রাশিয়ার তেল নিয়ে ভারতের অবস্থান

ভারত নিজের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করে থাকে। রাশিয়া বর্তমানে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহকারী দেশ। তাই তৃতীয় কোনও দেশের চাপের ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে নয়াদিল্লি মূল্য, সরবরাহ এবং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নীতি বজায় রেখেছে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় রাশিয়ার গুরুত্ব

ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশ সামরিক সরঞ্জাম, প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং যৌথ প্রতিরক্ষা প্রকল্পে সহযোগিতা করে আসছে। S-400 ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি পারমাণবিক শক্তি খাতেও দুই দেশের অংশীদারিত্ব রয়েছে।

কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখছে নয়াদিল্লি

আমেরিকা, রাশিয়া এবং অন্যান্য শক্তিশালী দেশের সঙ্গে একইসঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে ভারত নিজের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করার চেষ্টা করছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি মস্কোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সম্পর্কও ধরে রাখার নীতিই ভারতের বর্তমান কূটনৈতিক ভারসাম্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

‘স্পেশাল অ্যান্ড প্রিভিলেজড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’

ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ককে দুই দেশই ‘Special and Privileged Strategic Partnership’ হিসেবে উল্লেখ করে থাকে। ক্রেমলিনের বার্তা অনুযায়ী, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যিক সম্পর্ক যতই শক্তিশালী হোক না কেন, কয়েক দশকের ভারত-রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারিত্ব তার নিজস্ব গুরুত্ব বজায় রাখবে।

আগামীর কূটনীতিতে ভারতের ভারসাম্য

বিশ্ব রাজনীতিতে পরিবর্তন এবং একাধিক শক্তির মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ার সময়ে ভারতের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল নিজের জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা। ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্কের পাশাপাশি ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার নীতি সেই কৌশলগত ভারসাম্যেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।