শিলিগুড়িতে তিন দিনের সফরে অমিত শাহ, চিকেনস নেক ও সীমান্ত নিরাপত্তা পর্যালোচনায় বিশেষ নজর
তিন দিনের সফরে উত্তরবঙ্গে অমিত শাহ
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২০ থেকে ২২ আগস্ট, ২০২৬ পর্যন্ত তিন দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গে রয়েছেন। এই সফরের অন্যতম প্রধান বিষয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা বহুল পরিচিত ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা। সফরকালে সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক কর্মসূচি এবং উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
শিলিগুড়ি করিডোর ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। এই সংকীর্ণ ভূখণ্ডের মাধ্যমে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। অঞ্চলটি ভারত-বাংলাদেশ, ভারত-নেপাল ও ভারত-ভুটান সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় সীমান্ত সুরক্ষা এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
চিকেনস নেকের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব
অমিত শাহের উত্তরবঙ্গ সফরের মূল কর্মসূচিগুলির মধ্যে রয়েছে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা। সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি, নিরাপত্তা পরিকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় ও অন্যান্য সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিয়ে পর্যালোচনা হতে পারে। ভারত-বাংলাদেশ, ভারত-নেপাল এবং ভারত-ভুটান সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আলোচনায় রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: শিলিগুড়ি করিডোর দেশের বাকি অংশের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থল যোগাযোগের অন্যতম প্রধান সংযোগ। কৌশলগত অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা বরাবরই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সফরে সীমান্ত সুরক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনার কথা রয়েছে।
- ২০ থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিনের উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন অমিত শাহ।
- শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা সফরের অন্যতম প্রধান বিষয়।
- ভারত-বাংলাদেশ, ভারত-নেপাল ও ভারত-ভুটান সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে পর্যালোচনার কথা রয়েছে।
- শিলিগুড়ির SSB ফ্রন্টিয়ার সদর দফতরে সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রকল্পের কর্মসূচিতে যোগ দেবেন তিনি।
- SSB জওয়ানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও ঐতিহ্যবাহী ‘বড় খানা’ কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
SSB সদর দফতরে একাধিক কর্মসূচি
সফরসূচি অনুযায়ী, অমিত শাহ শিলিগুড়িতে সশস্ত্র সীমা বল বা SSB-এর ফ্রন্টিয়ার হেডকোয়ার্টারে যাবেন। সেখানে সীমান্ত নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কর্মসূচি রয়েছে। SSB জওয়ানদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ‘বড় খানা’য় অংশ নেওয়ার কথাও রয়েছে।
ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্ত পাহারায় বিভিন্ন কেন্দ্রীয় বাহিনীর নির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে। উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান এবং একাধিক আন্তর্জাতিক সীমান্তের নৈকট্যের কারণে এই অঞ্চলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিকাঠামো উন্নয়ন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে SSB-সংক্রান্ত প্রকল্পগুলির কর্মসূচিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অংশগ্রহণ তাৎপর্যপূর্ণ।
কাওয়াখালিতে নতুন ফৌজদারি আইন নিয়ে কর্মসূচি
সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি শিলিগুড়ির কাওয়াখালি ময়দানে নতুন ফৌজদারি আইন সংক্রান্ত একটি কর্মসূচিতেও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে অমিত শাহের। দেশের পুরনো ফৌজদারি আইনের পরিবর্তে কার্যকর হওয়া নতুন আইনগুলি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সেখানে একটি প্রদর্শনী ও আলোচনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন বিচারব্যবস্থা এবং ফৌজদারি আইন সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসূচিতে এই কর্মসূচির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বৈঠকও রয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা থেকে আঞ্চলিক বিষয়, একাধিক ইস্যুতে বৈঠক
তিন দিনের সফরে অমিত শাহের কর্মসূচি শুধু সীমান্ত নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ নয়। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও তাঁর একাধিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সফরের শেষ দিনে পাহাড় সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে, শিলিগুড়ি করিডোরের কৌশলগত নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সীমান্তের নজরদারি, SSB-সংক্রান্ত প্রকল্প, নতুন ফৌজদারি আইন নিয়ে সচেতনতা এবং উত্তরবঙ্গের আঞ্চলিক বিষয়—এই একাধিক ইস্যুকে সামনে রেখেই অমিত শাহের তিন দিনের সফর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা পর্যালোচনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের দিকে নজর রয়েছে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলের।