শিশুবিবাহ ও বাল্যবিয়ে রোধে কঠোর পদক্ষেপ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের, আইনি ব্যবস্থা ও ভাতা বাতিলের হুঁশিয়ারি
শিশুবিবাহ ও বাল্যবিয়ে রোধে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের
রাজ্যে ক্রমবর্ধমান শিশুবিবাহ ও নাবালিকা প্রসবের ঘটনা রোধ করতে এবার নজিরবিহীন ও অত্যন্ত কঠোর অবস্থানের কথা জানাল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। সম্প্রতি প্রশাসনিক বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, রাজ্যে বাল্যবিবাহ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এই সামাজিক অভিশাপ সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করতে আইনি পথে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে কিশোরী বয়সে মা হওয়ার ঘটনা এবং বাল্যবিবাহের হার চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় এই প্রবণতা রুখতে প্রশাসন এখন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। বিবাহিত বা যুক্ত নাবালক-নাবালিকা এবং তাদের পরিবারকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আইনি বয়স প্রমাণের সুযোগ দিয়ে কড়া নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপযুক্ত প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে সরাসরি ফৌজদারি ও পকসো (POCSO) আইনে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, শিশুবিবাহের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সরকারের কোনো ধরনের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প বা আর্থিক ভাতার সুবিধা পাবেন না এবং তাদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে আইনি মামলা রুজু করা হবে।
- প্রধান সিদ্ধান্ত: শিশুবিবাহের বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে আইনি কড়াকড়ি ও নজরদারি
- আইনি ধারা: ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং পকসো (POCSO) আইনের কঠোর প্রয়োগ
- সরকারি সুযোগ-সুবিধা বাতিল: অভিযুক্ত দম্পতি ও পরিবারের সমস্ত সামাজিক ভাতা ও অনুদান বন্ধ
- দায়িত্বপ্রাপ্ত পক্ষ: রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর ও পুলিশ প্রশাসন যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করছে
আইনি পরিণতি ও প্রশাসনের নজরদারি
প্রশাসনের কঠোর বার্তা অনুযায়ী, শুধু আইনি ব্যবস্তায় সীমাবদ্ধ না থেকে যে সমস্ত পুরোহিত বা কাজি এই ধরনের বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করাবেন, তাদের বিরুদ্ধেও উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া স্বাস্থ্য দপ্তরের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিটি ক্ষেত্রে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে, যাতে অল্প বয়সে বিয়ের পর আইনি ফাঁকফোকরে কেউ পার পেয়ে যেতে না পারে।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, সচেতনতামূলক প্রচারের পাশাপাশি এই ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক কড়াকড়ি সমাজে একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে। শিশুবিবাহের মতো আইনি অপরাধ বন্ধ হলে মেয়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, শিক্ষা এবং সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করা অনেকটাই সহজ হবে। রাজ্য সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে আগামী দিনে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাল্যবিয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলেই আশা করা হচ্ছে।