পশ্চিমবঙ্গে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি: এক লক্ষের বেশি কর্মীর পারিশ্রমিক বাড়াল রাজ্য সরকার
পশ্চিমবঙ্গে এক লক্ষের বেশি চুক্তিভিত্তিক কর্মীর পারিশ্রমিক বৃদ্ধি
রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক ও অস্হায়ী কর্মীদের জন্য বড় ধরণের আর্থিক স্বস্তির ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। সাম্প্রতিক রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রায় এক লক্ষেরও বেশি চুক্তিভিত্তিক কর্মী এবং সহায়কদের মাসিক পারিশ্রমিক বা ভাতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারের এই জনমুখী পদক্ষেপে শিক্ষা ও অন্যান্য খাতের সঙ্গে যুক্ত বহু প্রান্তিক কর্মী সরাসরি উপকৃত হবেন।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান বাজারদর ও জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মীদের পারিশ্রমিক সংশোধনের দাবি উঠেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রীসহ রাজ্য মন্ত্রিসভা বিভিন্ন ক্যাটাগরির চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের মাসিক ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবে সিলমোহর দিয়েছে। এর ফলে প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরের শিক্ষক থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক সহায়কদের মাসিক আয় অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিক স্তরের প্যারাটিচারদের মাসিক ভাতা ১১,৯৪১ টাকা থেকে বেড়ে ১৬,৯৪১ টাকা এবং উচ্চ প্রাথমিকে ১৫,৫২৩ টাকা থেকে বেড়ে ২০,৫২৩ টাকা হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষাবন্ধু, স্পেশাল এডুকেটর ও বিভিন্ন ম্যানেজমেন্ট কর্মীদের পারিশ্রমিকও ৫০০ টাকার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
- উপভোকতার সংখ্যা: ১ লক্ষেরও বেশি চুক্তিভিত্তিক কর্মী ও সহায়তাকারী
- প্রধান সুবিধাভোগী: প্যারাটিচার, শিক্ষাবন্ধু, স্পেশাল এডুকেটর ও এসএসকে-এমএসকে সহায়করা
- মাসিক বৃদ্ধির পরিমাণ: নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি অনুযায়ী প্রায় ৫,০০০ টাকা বা তার বেশি
- কার্যকরী সময়: চলতি বছরের নভেম্বর ও অক্টোবর মাস থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর হবে
বেতন বৃদ্ধির বিস্তারিত প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপে স্কুলশিক্ষা ও অন্যান্য দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অনেকাংশেই পূরণ হলো। বিশেষ করে পুজোর আগে এই ধরনের আর্থিক ঘোষণা হাজার হাজার কর্মীর পরিবারে উৎসবের আনন্দ বাড়িয়ে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মী সংগঠনগুলো সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের পারিশ্রমিক নিয়মিতভাবে পরিমার্জন করার ফলে তাদের সামাজিক সুরক্ষা এবং জীবনযাত্রার মান আরও সুদৃঢ় হবে। সরকারের এই অতিরিক্ত আর্থিক বরাদ্দের ফলে রাজ্যের কোষাগার থেকে বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে, যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্মীরা হাতে পাবেন। সবমিলিয়ে, চুক্তিভিত্তিক ও অস্হায়ী কর্মীদের কর্মজীবনে এটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।