সেপ্টেম্বরের শেষে রাষ্ট্রসংঘে ভাষণ দেবেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, আলোচনায় থাকবে বৈশ্বিক সংঘাত ও সন্ত্রাসবাদ
সেপ্টেম্বরের শেষে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় ভাষণ দেবেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর
চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হতে চলা রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের (UNGA) বার্ষিক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বৈশ্বিক সংঘাত, এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের মতো জ্বলন্ত সমস্যাগুলি এই ভাষণে ভারতের মূল বার্তা হিসেবে উঠে আসবে। উন্নয়নশীল দেশগুলির স্বার্থ রক্ষা এবং গ্লোবাল সাউথ (Global South)-এর কণ্ঠস্বরকে জোরালো করতে ভারত সবসময় বদ্ধপরিকর, যা এই মঞ্চ থেকেও প্রতিফলিত হবে।
প্রতি বছরের মতো এবছরের রাষ্ট্রসংঘের এই মহা-অধিবেশন বিশ্বমঞ্চে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। ইউক্রেন সংঘাত থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা—সার্বিক বৈশ্বিক নিরাপত্তার পরিস্থিতিতে ভারতের সুনির্দিষ্ট অবস্থান স্পষ্ট করবেন বিদেশমন্ত্রী। পাশাপাশি, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ (UNSC)-এ স্থায়ী সদস্যপদ অর্জনের জন্য দীর্ঘদিনের দাবি এবং আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মের ওপর ভিত্তি করে চলা বিশ্ব ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি জোরালো সওয়াল করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে জাতিসংঘ সাধারণ সভার (UNGA) মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখবেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, যেখানে বহুপাক্ষিক সংস্কার ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে।
- অনুষ্ঠানের স্থান ও সময়: নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সদর দপ্তর, সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ
- ভারতের প্রতিনিধিত্ব: কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর
- ভাষণের মূল এজেন্ডা: বৈশ্বিক সংঘাত, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা এবং গ্লোবাল সাউথের অধিকার
- কূটনৈতিক গুরুত্ব: নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বার্তা প্রদান
দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং কূটনৈতিক তৎপরতা
রাষ্ট্রসংঘের এই অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিভিন্ন দেশের সমকক্ষ বিদেশমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্র দেশগুলির সঙ্গে পারস্পরিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বাণিজ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে যখন নানা মেরুকরণ ও সংঘাতের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে, তখন ভারতের স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্র নীতি তুলে ধরার ক্ষেত্রে জয়শঙ্করের এই ভাষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভারতের অবদান এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ক্রমবর্ধমান প্রভাব আবারও এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে জোরালোভাবে প্রতিফলিত হবে।