দিল্লি হাইকোর্টের বড় মন্তব্য: সাত শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে ভবনধস মামলায় এমসিডি ও ডিইউ প্রশাসন দায়ী
দিল্লি হাইকোর্টের বড় মন্তব্য, সাত শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে ভবনধস মামলায় এমসিডি ও ডিইউ দায়ী
রাজধানীর সত্য নিকেতন এলাকায় বহুতল ছাত্রাবাস বা পিজি (PG) ভবন ধসে সাতজন শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অফ দিল্লি (MCD) এবং দিল্লি ইউনিভার্সিটি (DU) প্রশাসনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিল দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এই ধরনের ভয়াবহ দুর্ঘটনার দায় কেবল একা ভবন মালিকের ওপর চাপিয়ে প্রশাসন দায় এড়াতে পারে না। বেআইনি নির্মাণ ও নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি চালাতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বিভাগগুলিও সমানভাবে দায়ী।
বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তা বিপন্ন করে এমন উদাসীন ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। আবাসিক এলাকাগুলিতে কীভাবে দিনের পর দিন বেআইনিভাবে বহুতল পিজি ও লজ পরিচালিত হচ্ছিল এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলি কেন সময়মতো পদক্ষেপ নেয়নি, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। শহরের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের আশেপাশের আবাসনগুলিতে ছাত্র-ছাত্রীদের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড়সড় ফাঁকফোকর রয়েছে বলে আদালতে স্বীকার করেছে বেঞ্চ।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: আদালত এই ঘটনায় এমসিডি ও ডিইউ (DU) কর্তৃপক্ষের কাছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিস্তারিত অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট তলব করেছে এবং বেআইনিভাবে চলা সমস্ত পিজি ও ঝুঁকিপূর্ণ ছাত্রাবাসগুলির বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
- আদালতের মূল পর্যবেক্ষণ: ভবনধস ও প্রাণহানির ঘটনায় এমসিডি এবং ডিইউ প্রশাসন সমানভাবে দায়ী
- প্রশাসনিক ব্যর্থতা: বেআইনি নির্মাণ ও নজরদারির অভাব নিয়ে আদালতের তীব্র ভর্ৎসনা
- নির্দেশিকা: ঝুঁকিপূর্ণ পিজি ও ছাত্রাবাসগুলির বিরুদ্ধে দ্রুত কড়া পদক্ষেপ ও রিপোর্ট তলব
- আইনি পদক্ষেপ: কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ
হাইকোর্টের এই ঐতিহাসিক রায়ের পর রাজধানীজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মূল ভবন মালিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে এমসিডি-র ৫ জন জোনভিত্তিক আধিকারিককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার সমস্ত ছাত্রাবাসের পরিকাঠামো এবং ফায়ার সেফটি অডিট করার কাজ শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের এই কড়া বার্তার ফলে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবনগুলির নির্মাণ এবং লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক নজরদারি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। ছাত্র-ছাত্রীদের জীবন সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার লক্ষে এই নির্দেশ অত্যন্ত দূরবর্তী ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।