হাইড্রোজেন ট্রেনের গতি বাড়াতে বড় পদক্ষেপ রেলের: এবার ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার বেগে ছুটবে দেশের প্রথম গ্রিন ট্রেন
হাইড্রোজেন ট্রেনের গতি বাড়াতে প্রস্তুতি, ১১০ কিলোমিটার গতির লক্ষ্য রেলের
পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায় তৈরি করে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন চালিত ট্রেনের অপারেশনাল গতি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে ভারতীয় রেল। রেল বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সিইও সতিশ কুমার সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, পরীক্ষামূলকভাবে ঘণ্টায় ১২০ কিমি গতিবেগ সফলভাবে অর্জনের পর এবার এই হাইড্রোজেন ট্রেনটির নিয়মিত সর্বোচ্চ গতিবেগ বাড়িয়ে ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার করার জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এতদিন এই ট্রেনটি নির্ধারিত রুটে তুলনামূলক কম গতিতে চলাচল করলেও, এর পারফরম্যান্স উন্নত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হরিয়ানার জিন্দ থেকে সোনিপত পর্যন্ত ৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রুটে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ট্রেনের উদ্বোধন করেছিলেন। প্রথাগত ডিজেল বা বৈদ্যুতিক ট্রেনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই 'গ্রিন রেল' ট্রেন সেটে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। এর ফলে ক্ষতিকর কার্বন নির্গমন বা ধোঁয়ার সমস্যা সম্পূর্ণ এড়ানো সম্ভব হয় এবং উপজাত হিসেবে কেবল জলীয় বাষ্প নির্গত হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: রেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, হাইড্রোজেন ট্রেনের গতি ১১০ কিলোমিটারে উন্নীত করার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অ-বৈদ্যুতিক (non-electrified) ও ঐতিহ্যবাহী রুটগুলিতে এই ট্রেন চালুর বিষয়েও বিভিন্ন অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
- বর্তমান অপারেশনাল গতি: প্রাথমিকভাবে ৭৫ কিমি/ঘণ্টা গতিতে পরিচালিত হচ্ছিল।
- ট্রায়াল আপডেট: সম্প্রতি সফলভাবে ১২০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে পরীক্ষামূলক দৌড় সম্পন্ন হয়েছে।
- নতুন লক্ষ্যমাত্রা: ট্রেনটির নিয়মিত সর্বোচ্চ গতি বাড়িয়ে ১১০ কিমি/ঘণ্টা করার পরিকল্পনা।
- প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য: ফুয়েল সেল প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন শক্তি উৎপাদন ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নতুন রুটের সন্ধান
রেল বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপের সাফল্য বিচার করে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও হাইড্রোজেন ট্রেন পরিষেবা সম্প্রসারণের কথা ভাবছে রেল মন্ত্রক। বিশেষ করে যে সমস্ত পাহাড়ি বা গ্রামীণ রুটে এখনও পর্যন্ত রেলের বৈদ্যুতিকরণ (Electrification) হয়নি, সেখানে ডিজেল ইঞ্জিনের বিকল্প হিসেবে এই হাইড্রোজেন ট্রেনগুলি পরিবেশ রক্ষায় অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।
গতি বাড়ানোর এই পদক্ষেপের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ বা রিফুয়েলিং পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তিগত দিকগুলিও নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছেন রেল আধিকারিকরা। আগামী দিনে ভারতের রেল নেটওয়ার্কে আধুনিকায়ন এবং কার্বন-মুক্ত গ্রিন করিডর তৈরির ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ অত্যন্ত দূরদর্শী ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে।