ভারতে প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্প দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে, পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত প্রথম কোচ: রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব
ভারতে প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্পে বড় অগ্রগতি, পরীক্ষার জন্য তৈরি প্রথম কোচ
দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে এক ঐতিহাসিক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষে দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন (Bullet Train) প্রকল্পে গতি এল আরও। মুম্বাই-আহমেদাবাদ হাই-স্পিড রেল (MAHSR) করিডরের কাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। এই মেগা প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে গিয়ে তিনি জানান যে, বুলেট ট্রেনের ট্রায়াল বা পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত প্রথম কোচটি ইতিমধ্যেই পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। এর ফলে ভারতের দ্রুততম রেল যোগাযোগের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগোল।
রেল মন্ত্রক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালেই দেশের প্রথম হাই-স্পিড ট্রেন পরিষেবা চালুর প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সুরাট থেকে বিলিমোরা পর্যন্ত অংশটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ভাপি ও সুরাট সেকশনের সমস্ত সিভিল কন্সট্রাকশন বা পরিকাঠামোগত নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাপান সরকারের সহযোগিতায় এবং আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় গড়ে ওঠা এই প্রকল্প ভারতের রেল ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করতে চলেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন যে, মুম্বাই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পের প্রথম পরীক্ষামূলক কোচটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়সীমার আগেই প্রকল্পের বিভিন্ন সেকশনের কাজ এগিয়ে চলছে।
- প্রকল্পের নাম: মুম্বাই-আহমেদাবাদ হাই-স্পিড রেল (MAHSR) করিডর
- বর্তমান আপডেট: পরীক্ষার জন্য প্রথম বুলেট ট্রেন কোচ সম্পূর্ণ প্রস্তুত
- লক্ষ্যমাত্রা: সুরাট থেকে বিলিমোরা সেকশন চালুর প্রস্তুতি আগামী বছর
- পরিকাঠামো নির্মাণ: ভাপি-সুরাট সেকশনের সিভিল ওয়ার্ক চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষের পথে
উচ্চ গতিসম্পন্ন রেল নেটওয়ার্ক ও প্রকল্পের তাৎপর্য
ভারতের এই উচ্চ গতিসম্পন্ন রেল করিডরটি চালু হলে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই এবং গুজরাটের আহমেদাবাদের মধ্যে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত সিগন্যালিং ব্যবস্থা এবং ডেডিকেটেড ট্র্যাকের মাধ্যমে এই ট্রেনগুলি ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে ছোটার উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরীক্ষামূলক কোচ প্রস্তুত হওয়া এবং পরিকাঠামোগত কাজ নির্ধারিত সময়ের আগে এগোইওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বুলেট ট্রেন চড়ার প্রত্যাশা বহুগুণ বেড়ে গেছে। দেশের পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও বিশ্বমানের করে তোলার ক্ষেত্রে এটি কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম বড় একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে।