সরকারি ও গণগ্রন্থাগার থেকে মমতার বই সরানোর নির্দেশ ঘিরে বিতর্ক, রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে

সরকারি ও গণগ্রন্থাগার থেকে মমতার বই সরানোর নির্দেশ ঘিরে বিতর্ক, রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে

সরকারি ও স্পনসর্ড লাইব্রেরি থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বই সরানোর নির্দেশ

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি এবং সরকার-পোষিত গণগ্রন্থাগারগুলো থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বিভিন্ন বই অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার একটি নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্য গ্রন্থাগার আধিকারিকদের একাংশের পাঠানো এই অভ্যন্তরীণ নির্দেশ প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধী শিবির থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবী মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার ঝড় উঠেছে। সরকারি অর্থে কেনা রাজনৈতিক বা দলীয় ব্যক্তিত্বের বই লাইব্রেরি থেকে বাতিলের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।

নির্দেশিকার মূল বিষয়বস্তু ও কারণ

গ্রন্থাগার দফতর ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিতর্কের পেছনের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • সরকারি অনুদানে পরিচালিত লাইব্রেরিগুলিতে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা নেতার লেখা বইয়ের সংখ্যা ও প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করা।
  • অতীতে বিভিন্ন সময়ে সরকারি উদ্যোগে কেনা মুখ্যমন্ত্রীর বিভিন্ন কাব্যগ্রন্থ, রাজনৈতিক প্রবন্ধ ও স্মৃতিকথার বইগুলো তাক থেকে তুলে সংরক্ষণাগারে পাঠানোর নির্দেশ।
  • গ্রন্থাগারগুলির নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং সর্বজনীন পাঠাগারে নির্দিষ্ট দলের প্রচারমূলক সাহিত্য এড়িয়ে চলার যুক্তি দেখানো হয়েছে প্রশাসনের একটি অংশের তরফে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক

এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসার পরই তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ বলে তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলির দাবি—সরকারি টাকায় পরিচালিত গ্রন্থাগারে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক নেতার বইয়ের বিশেষ প্রদর্শন অনুচিত এবং এই সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল। সবমিলিয়ে, বই অপসারণের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন।