১৫ বছরের আইনি জট কেটে আলোর মুখ, বরাহনগর-ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্পের জন্য মিলল পরিবেশগত ছাড়পত্র

১৫ বছরের আইনি জট কেটে আলোর মুখ, বরাহনগর-ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্পের জন্য মিলল পরিবেশগত ছাড়পত্র

দীর্ঘ ১৫ বছরের আইনি জট কাটিয়ে অবশেষে পরিবেশগত ছাড়পত্র পেল বরাহনগর-ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্প

অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জট কাটল বহুল প্রতীক্ষিত বরাহনগর-ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্পের। বিগত প্রায় দেড় দশক ধরে চলা আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে কলকাতা পৌরসভা বা কেএমসি-র পক্ষ থেকে এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার এই গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো লাইন সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা দূর হলো। এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু হলে এই রুটের লক্ষাধিক নিত্যযাত্রী মারাত্মক উপকৃত হবেন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার মান বহুগুণ উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্রের খবর, নানা জটিলতা এবং পরিবেশগত অনুমোদনের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্পের কাজ কার্যত স্তব্ধ হয়ে ছিল। প্রকল্প রূপায়ণে একাধিক প্রশাসনিক ও আইনি প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় কাজ এগোতে পারেনি। তবে সাম্প্রতিক আলোচনার পর এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত শর্ত পূরণের সাপেক্ষে কলকাতা পৌরসভার তরফে এই ছাড়পত্র মেলে। মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে জট কাটার এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার সঙ্গে কলকাতার যাতায়াত আরও সুগম করতে এই মেট্রো রুটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: দীর্ঘ ১৫ বছরের আইনি ও প্রশাসনিক জট কাটিয়ে অবশেষে কেএমসি-র পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়ায় বরাহনগর-ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্পের কাজ নতুন গতি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

  • প্রায় ১৫ বছর ধরে আইনি জটে আটকে ছিল বরাহনগর-ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্প।
  • কলকাতা পৌরসভা বা কেএমসি-র পক্ষ থেকে অবশেষে পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
  • এই প্রকল্প রূপায়িত হলে উত্তর কলকাতার সঙ্গে উত্তর ২৪ পরগনার যোগাযোগ অনেক সহজ হবে।
  • নিত্যযাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে দ্রুত কাজ শুরুর দাবি উঠেছে।

প্রকল্পের ভবিষ্যৎ ও যাত্রীদের প্রত্যাশা

পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়ার পর এখন পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলির দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের। দ্রুত রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড বা সংশ্লিষ্ট মেট্রো নির্মাণকারী সংস্থাগুলি প্রকল্পের পরিকল্পনা নতুন করে রূপায়ণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিগত বছরগুলিতে জমি অধিগ্রহণ এবং অন্যান্য পরিকাঠামোগত সমস্যাও এই প্রকল্পের গতি শ্লথ করে দিয়েছিল। তবে বর্তমান এই ইতিবাচক পদক্ষেপের ফলে থমকে থাকা কাজ আবার শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মেট্রো রুট চালু হলে জিটি রোড সংলগ্ন এলাকার তীব্র যানজট সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। কম সময়ে এবং সাশ্রয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন সাধারণ মানুষ। সমস্ত বাধা কাটিয়ে কবে নাগাদ এই বহুল প্রতীক্ষিত প্রকল্পের নির্মাণ কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় এবং কবে তা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।