দক্ষিণবঙ্গের বন্যাপ্রবণ কৃষিপ্রধান এলাকায় জলবাহিত রোগ ঠেকাতে ব্লক স্তরে হাই অ্যালার্ট জারি
দক্ষিণবঙ্গের বন্যাপ্রবণ কৃষিপ্রধান এলাকায় জলবাহিত রোগ ঠেকাতে ব্লক স্তরে হাই অ্যালার্ট
রাজ্যের দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি ও অতিরিক্ত জল জমার জেরে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের যে সমস্ত জেলাগুলি কৃষিপ্রধান এবং প্রতি বছর নদীমাতৃক বা অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে প্লাবিত হয়, সেই সমস্ত অঞ্চলের প্রতিটি ব্লক স্তরে এবার হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। জল নামার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন এলাকায় যাতে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড বা জন্ডিসের মতো জলবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে না পড়ে, তার জন্য আগে থেকেই সমস্ত প্রস্তুতি সেরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিকে।
স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, বন্যা দুর্গত এবং জলমগ্ন কৃষি অঞ্চলগুলিতে বিশুদ্ধ পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ওআরএস বা প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রাখার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। ব্লক স্তরের স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নিয়ে বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে, যারা প্রতিটি গ্রামের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ওপর নিরন্তর নজর রাখবেন। পাশাপাশি, পঞ্চায়েত এলাকার নলকূপ ও জলের উৎসগুলি ব্লিচিং পাউডার দিয়ে জীবাণুমুক্ত করার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করে দেওয়া হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ কোনোভাবেই দূষিত জল পানের শিকার না হন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: দক্ষিণবঙ্গের বন্যাপ্রবণ কৃষিপ্রধান ব্লকগুলিতে জলবাহিত রোগের সংক্রমণ ও মহামারী রোধ করতে স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
- দক্ষিণবঙ্গের বন্যা কবলিত কৃষিপ্রধান ব্লকগুলিতে স্বাস্থ্য দপ্তরের বিশেষ সতর্কতা জারি।
- জলবাহিত রোগের সংক্রমণ ঠেকাতে পর্যাপ্ত ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
- গ্রামাঞ্চলে জল ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নত করতে পঞ্চায়েত ও স্বাস্থ্য কর্মীরা যৌথভাবে কাজ করছেন।
- জ্বর ও পেটের গোলযোগের উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসার জন্য মেডিকেল ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি
প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত ব্লকে অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যাতে প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ ঘরে বসেই প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেতে পারেন। চিকিৎসকদের দল ও স্বাস্থ্য কর্মীরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে মানুষকে জল ফুটিয়ে খাওয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে সচেতন করছেন। কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলগুলিতে গবাদি পশুর সুরক্ষার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে যাতে পচাপাতার গন্ধ বা নোংরা জল থেকে কোনো ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে। সরকারের এই তৎপরতার ফলে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।