নাইজারে সরকারের বিরুদ্ধে সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা ব্যর্থ, নিহত ও ধৃত বহু বিদ্রোহী সেনা
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারে বড়সড় সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা ব্যর্থ
পশ্চিম আফ্রিকার সংঘাতপীড়িত দেশ নাইজার (Niger)-এ ক্ষমতাসীন সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে এক বড়সড় সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিল দেশটির অনুগত নিরাপত্তা বাহিনী। রাজধানী নিয়ামে (Niamey)-তে অবস্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিতে অতর্কিত হামলা চালায় একদল বিদ্রোহী সেনা। গভীর রাতের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ও গোলাগুলিতে পুরো রাজধানী জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে সেনার দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি বর্তমানে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সংঘর্ষের বিবরণ ও সরকারি পদক্ষেপ
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার নেপথ্যে থাকা বিদ্রোহী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছিল:
- বিদ্রোহী সেনারা রাজধানীর বিমানবন্দর ও মূল সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বন্দি করেছিল।
- রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল (RTN)-এর সম্প্রচার কিছু সময়ের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হলেও পরে তা আবার স্বাভাবিক করা হয়।
- সরকারের অনুগত প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ড এবং বিশেষ বাহিনী দ্রুত পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে বিদ্রোহী সেনাদের পিছু হঠাতে বাধ্য করে।
- নিরাপত্তা বাহিনীর জোরালো পদক্ষেপে একাধিক বিদ্রোহী সেনাকে নিকেশ করা হয়েছে এবং অনেককে বন্দি করা হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী জেনারেল আবদুরহমান চিয়ানি (Abdourahamane Tiani)-র সরকারের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে সেনার একাঞ্চলের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। জাঁহাদি আক্রমণ মোকাবিলায় ব্যর্থতা এবং অভ্যন্তরীণ নানা চাপ থেকেই এই অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের সূত্রপাত বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার এবং কোনো ধরনের উস্কানিমূলক বা ভুয়ো তথ্যে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।