নেপালের জলবিদ্যুৎ পরিকাঠামো বিপর্যস্ত, জরুরি ভিত্তিতে ভারতের কাছে বিদ্যুৎ চাইল কাঠমান্ডু
ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি
সম্প্রতি তিব্বত ও নেপালের হিমালয় অঞ্চলে নেমে আসা ভয়াবহ হড়পা বান এবং ভূমিধসের জেরে প্রতিবেশী দেশ নেপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। দেশটির প্রধান শক্তি উৎসের উৎসস্থল হিসেবে পরিচিত একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশাল ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে কাঠমান্ডু ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখা এবং ক্রমবর্ধমান সংকট সামাল দিতে এবার জরুরি ভিত্তিতে ভারতের কাছে বিদ্যুৎ আমদানির আর্জি জানিয়েছে নেপাল সরকার।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণ ও ভারতের কাছে সাহায্য প্রার্থনা
সাধারণত নেপাল বর্ষার মরসুমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ভারতে রফতানি করে থাকে এবং শীতকালে বিদ্যুৎ আমদানি করে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক আগেই জরুরি ভিত্তিতে আবেদন জানানো হয়েছে:
- বন্যায় ত্রিমুখী ও রাসুলুয়া অঞ্চলের একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৫৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।
- ভারতের মুজাফ্ফরপুর ও নেপালের ধলকেবর ক্রস-বর্ডার ট্রান্সমিশন লাইনের মাধ্যমে দ্রুত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য কাঠমান্ডুর পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।
- সাধারণত অক্টোবর বা শীতের শুরুতে এই ধরনের আবেদন করা হলেও, বিপর্যয়ের জেরে সেপ্টেম্বর মাস থেকেই আগাম বিদ্যুৎ চেয়ে বিশেষ অনুমোদন চেয়েছে নেপাল।
- ভারত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই এই দ্বিপাক্ষিক কাঠামোর আওতায় নেপালের আবেদনটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে শুরু করেছে।
দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ও বর্তমান পরিস্থিতি
বিপর্যয়গ্রস্ত নেপালকে এই কঠিন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এর ফলে একদিকে যেমন নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন বিদ্যুতের চাহিদা মিটবে, অন্যদিকে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের পারস্পরিক জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।