রাঁচিতে চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভ, হেমন্ত সোরেনের কুশপুতুল দাহ ঘিরে উত্তেজনা

রাঁচিতে চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভ, হেমন্ত সোরেনের কুশপুতুল দাহ ঘিরে উত্তেজনা

চাকরির দাবিতে রাঁচিতে চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভ

ঝাড়খণ্ডে শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষের জেরে রাঁচিতে বিক্ষোভে নামলেন চাকরিপ্রার্থীরা। অভিযোগ, একাধিক নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে অনিয়ম এবং প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া চালুর দাবিতে রাজধানী রাঁচিতে বড়সড় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন চাকরিপ্রার্থী ও যুবসমাজের একাংশ।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ফলাফল এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়িয়েছে। আন্দোলনকারীরা দ্রুত পরীক্ষাগুলির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান।

মুখ্যমন্ত্রীর কুশপুতুল দাহ: প্রতিবাদ কর্মসূচির সময় আন্দোলনকারীরা মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের কুশপুতুল দাহ করেন। এর মাধ্যমে তাঁরা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবি তোলেন। বিক্ষোভ ঘিরে রাঁচির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় উত্তেজনাও তৈরি হয়।

  • শিক্ষক নিয়োগ ও সরকারি চাকরির পরীক্ষার ফল নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
  • প্রশ্ন ফাঁস ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করা হয়েছে।
  • রাঁচিতে চাকরিপ্রার্থীরা বড় মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
  • আন্দোলনকারীরা হেমন্ত সোরেনের কুশপুতুল দাহ করেন।
  • পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জের মতো পদক্ষেপ নিতে হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

স্বচ্ছ নিয়োগের দাবিতে সরব চাকরিপ্রার্থীরা

চাকরিপ্রার্থীদের মূল দাবি হল সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং পরীক্ষার ফলাফল দ্রুত প্রকাশ করা। তাঁদের বক্তব্য, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য দীর্ঘ সময় ও অর্থ ব্যয় করার পর নিয়োগ প্রক্রিয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়লে প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। তাই পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য প্রকাশ এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়েছে।

প্রশ্ন ফাঁস বা পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের মতে, কোনও পরীক্ষায় অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি যোগ্য প্রার্থীদের স্বার্থও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা

বিক্ষোভকারীদের জমায়েতকে কেন্দ্র করে রাঁচির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে গিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের উত্তেজনা তৈরি হয়। বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের কথাও সামনে এসেছে। ফলে চাকরির দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

চাকরিপ্রার্থীদের এই আন্দোলন রাজ্যে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে চলা অসন্তোষকে ফের সামনে নিয়ে এসেছে। এখন নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগগুলির বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং পরীক্ষাগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে কী ঘোষণা করা হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।