ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেষ্টনী নির্মাণে ১,১২৯ একর জমি হস্তান্তর, পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে প্রশংসা অমিত শাহের

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেষ্টনী নির্মাণে ১,১২৯ একর জমি হস্তান্তর, পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে প্রশংসা অমিত শাহের

সীমান্ত পরিকাঠামোর জন্য ১,১২৯ একর জমি হস্তান্তর, রাজ্য সরকারকে প্রশংসা অমিত শাহের

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেষ্টনী নির্মাণ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য ১,১২৯ একর জমি হস্তান্তরের বিষয়টি তুলে ধরে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শিলিগুড়ির রানিডাঙ্গায় সশস্ত্র সীমা বল বা SSB-এর একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর অল্প সময়ের মধ্যেই দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা জমি সংক্রান্ত বিষয়টির সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অমিত শাহের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেষ্টনী নির্মাণ এবং BSF ও SSB-এর প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর জন্য এই জমির প্রয়োজন ছিল। তিনি জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই জমির বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে ছিল। নতুন সরকার গঠনের পর জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের দাবি

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নতুন সরকার গঠনের পর ৪৫ দিনের মধ্যে মোট ১,১২৯ একর জমি BSF ও SSB-এর প্রয়োজনীয় কাজের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, এই জমির একটি অংশ সীমান্তে বেষ্টনী নির্মাণের জন্য এবং বাকি অংশ নিরাপত্তা বাহিনীর পরিকাঠামো ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অমিত শাহের দাবি: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই জমির প্রয়োজন ছিল। তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী রাজ্য সরকারের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানানো হলেও প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের বিষয়টি দীর্ঘদিন অমীমাংসিত ছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই প্রক্রিয়ায় গতি এসেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিএসএফ ও এসএসবি পরিকাঠামোয় গুরুত্ব

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তের বিভিন্ন অংশে বেষ্টনী নির্মাণ, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উপস্থিতি এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো শক্তিশালী করার জন্য জমির প্রয়োজন হয়। BSF মূলত ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত পাহারার দায়িত্বে রয়েছে, আর উত্তরবঙ্গের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে SSB-এর পরিকাঠামোও সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ।

রানিডাঙ্গার অনুষ্ঠানে অমিত শাহ সীমান্ত সুরক্ষা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার উপরও গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সীমান্তের অসম্পূর্ণ বেষ্টনী দ্রুত সম্পন্ন করা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

  • পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১,১২৯ একর জমি সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজে হস্তান্তর করেছে বলে অমিত শাহ জানিয়েছেন।
  • জমির একটি অংশ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেষ্টনী নির্মাণের কাজে ব্যবহারের কথা রয়েছে।
  • BSF ও SSB-এর পরিকাঠামোগত প্রয়োজন মেটাতেও জমি বরাদ্দের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
  • নতুন সরকার গঠনের পর ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের কাজ এগিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
  • ২০১৪ সাল থেকে জমি সংক্রান্ত বিষয়টি দীর্ঘদিন আটকে ছিল বলে অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
  • সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধ ও নিরাপত্তা জোরদারে সম্পূর্ণ বেষ্টনী নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।

পূর্ববর্তী সরকারকে নিশানা অমিত শাহের

এই প্রসঙ্গে অমিত শাহ পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকেও আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, সীমান্তে বেষ্টনী ও নিরাপত্তা পরিকাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেওয়ার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রের অনুরোধ সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে রাজনৈতিক মতভেদ রয়েছে এবং সীমান্ত সংক্রান্ত জমি অধিগ্রহণ ও হস্তান্তরের বিষয়টি অতীতে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গেও যুক্ত ছিল।

বর্তমান রাজ্য সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করে অমিত শাহ বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার মতো বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, সীমান্তে প্রয়োজনীয় বেষ্টনী এবং আধুনিক নিরাপত্তা পরিকাঠামো সম্পূর্ণ হলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

সীমান্ত নিরাপত্তায় কী গুরুত্ব এই জমি হস্তান্তরের?

সীমান্তে বেষ্টনী নির্মাণের জন্য শুধু প্রকল্প অনুমোদন যথেষ্ট নয়, বাস্তব কাজ শুরু করতে প্রয়োজনীয় জমির প্রাপ্যতাও জরুরি। জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নতুন বেষ্টনী, সীমান্ত চৌকি, প্রশাসনিক ভবন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সহজ হতে পারে।

তবে ১,১২৯ একর জমির মধ্যে কোন অংশ কোন প্রকল্পে ব্যবহার হবে এবং সংশ্লিষ্ট কাজগুলি কত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ হবে, তা প্রকল্পভিত্তিক বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করবে। বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যের বক্তব্যে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অসম্পূর্ণ বেষ্টনী দ্রুত শেষ করার বিষয়টিই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আগামী দিনে জমি হস্তান্তরের পর সীমান্ত পরিকাঠামোর কাজ কত দ্রুত এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে।