ডেঙ্গু রুখতে কলকাতায় ড্রোন নজরদারি, নির্মাণাধীন বহুতলে জমা জল দেখলেই জরিমানা
ডেঙ্গু মোকাবিলায় কলকাতা পুরসভার নতুন নজরদারি
বর্ষার মরশুমে কলকাতা শহরে ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নজরদারি আরও জোরদার করেছে কলকাতা পুরসভা। শহরের এমন একাধিক জায়গা রয়েছে যেখানে সাধারণভাবে পুরকর্মীদের পক্ষে সরাসরি পৌঁছে জমা জল বা মশার লার্ভা পরীক্ষা করা কঠিন। সেইসব এলাকায় নজরদারির জন্য এবার ড্রোন প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে বহুতল আবাসন, বন্ধ হয়ে থাকা কারখানা, জলমগ্ন জমি এবং নির্মাণাধীন ভবনের এমন অংশকে নজরে রাখা হচ্ছে যেখানে দীর্ঘদিন ধরে জল জমে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ড্রোনের ক্যামেরার মাধ্যমে উপর থেকে এসব জায়গা পর্যবেক্ষণ করে সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
নির্মাণাধীন বহুতলের ছাদ ও কার্নিশে বিশেষ নজর
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নির্মাণাধীন বহুতলগুলির ছাদ, কার্নিশ এবং অন্যান্য দুর্গম অংশে। বর্ষার সময়ে নির্মাণস্থলে ব্যবহৃত বিভিন্ন পাত্র, গর্ত বা অসমতল জায়গায় জল জমে থাকতে পারে। মানুষের পক্ষে প্রতিটি জায়গায় পৌঁছে নিয়মিত পরীক্ষা করা কঠিন হওয়ায় ড্রোন নজরদারি সেই ঘাটতি পূরণে সহায়ক হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: ড্রোনের মাধ্যমে কোনও জায়গায় জমা জল বা মশার লার্ভার সম্ভাব্য উপস্থিতি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট এলাকা দ্রুত পরিদর্শনের জন্য পুরকর্মীদের পাঠানো হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী জমা জল সরানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
জমা জল শনাক্ত হলেই দ্রুত পদক্ষেপ
ডেঙ্গুর মশা সাধারণত জমে থাকা পরিষ্কার জলে বংশবিস্তার করতে পারে। তাই বর্ষাকালে বাড়ির ছাদ, নির্মাণস্থল, পরিত্যক্ত জমি এবং বিভিন্ন ধরনের জলধারণকারী জায়গায় নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ড্রোনের সাহায্যে দ্রুত বড় এলাকা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হওয়ায় পুরসভা সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলি চিহ্নিত করে সেখানে দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে পারছে।
কোনও বাড়ি বা নির্মাণস্থলে নিয়মিতভাবে জল জমে থাকার মতো পরিস্থিতি দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট মালিক বা নির্মাণ সংস্থাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুযায়ী জরিমানা এবং আইনি নোটিশ দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
বাড়ির মালিক ও প্রোমোটারদের সতর্কবার্তা
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধুমাত্র পুরসভার অভিযান যথেষ্ট নয়। বাড়ির মালিক, আবাসন কর্তৃপক্ষ এবং নির্মাণ সংস্থাগুলিকেও নিজেদের এলাকায় জমা জল যাতে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে নির্মাণাধীন বহুতলের ক্ষেত্রে নিয়মিত জল পরিষ্কার করা এবং মশার প্রজননের সম্ভাবনা রয়েছে এমন জায়গাগুলি নজরে রাখা প্রয়োজন।
পুরসভার নজরদারিতে কোনও নির্মাণস্থলে মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রোমোটার বা মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর ফলে নির্মাণ সংস্থাগুলির উপরও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার চাপ বাড়ছে।
- কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ড্রোনের সাহায্যে নজরদারি চালানো হচ্ছে।
- নির্মাণাধীন বহুতলের ছাদ ও কার্নিশের মতো দুর্গম জায়গায় বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
- বন্ধ কারখানা, জলমগ্ন জমি এবং সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থলও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
- জমা জল বা লার্ভার সম্ভাব্য উপস্থিতি শনাক্ত হলে পুরকর্মীদের দ্রুত পাঠানো হচ্ছে।
- নিয়ম না মানলে বাড়ির মালিক বা প্রোমোটারকে জরিমানা ও আইনি নোটিশ দেওয়া হতে পারে।
প্রযুক্তির মাধ্যমে মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ
শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করা পুরসভার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে উঁচু ভবনের ছাদ বা সরু কার্নিশের মতো জায়গায় নিয়মিত নজরদারি করা কঠিন। ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার সেইসব জায়গায় দ্রুত নজর পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
ড্রোন থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুরকর্মীরা নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারছেন। এর ফলে এলাকা ধরে সাধারণ নজরদারির পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানকে চিহ্নিত করে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান চালানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
বর্ষায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন
বর্ষাকালে একাধিক দিন বৃষ্টি হওয়ার পর শহরের বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট জলাধার তৈরি হতে পারে। সেই জল কয়েকদিন জমে থাকলে মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়। তাই বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, নির্মাণস্থল এবং পরিত্যক্ত সামগ্রীর মধ্যে জল জমছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি।
কলকাতা পুরসভার ড্রোন নজরদারির পাশাপাশি নাগরিকদেরও নিজেদের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল দ্রুত সরিয়ে ফেলা গেলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নজরদারি আরও জোরদার
বর্ষার সময় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কলকাতা পুরসভার এই প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি অভিযান আরও বিস্তৃত হতে পারে। দুর্গম জায়গায় দ্রুত নজর পৌঁছনো এবং জমা জল শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহার পুরসভার প্রচলিত নজরদারির সঙ্গে অতিরিক্ত সহায়তা দিচ্ছে। পাশাপাশি নিয়ম না মানা বাড়ির মালিক ও নির্মাণ সংস্থার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে সতর্কতাও বাড়ানো হচ্ছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সময়মতো জমা জল সরানো এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুরসভা, আবাসন কর্তৃপক্ষ, নির্মাণ সংস্থা এবং সাধারণ মানুষ একসঙ্গে সতর্ক থাকলে বর্ষার মরশুমে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে।