উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে ২০ শয্যার নতুন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র উদ্বোধন, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে জোর

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে ২০ শয্যার নতুন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র উদ্বোধন, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে জোর

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে নতুন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র

উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন সংযোজন হল একটি আধুনিক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র। শিলিগুড়ির উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ২০ শয্যার এই ডি-অ্যাডিকশন সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উত্তরবঙ্গ সফরে এসে এই নতুন কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা এবং সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এই কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের অপব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মাদকাসক্তির সমস্যা কমাতে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে এই বিশেষায়িত চিকিৎসা পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

২০ শয্যার এই কেন্দ্রে চিকিৎসার পাশাপাশি কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। মাদকাসক্তির সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক সহায়তাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী কাউন্সেলিং এবং পুনর্বাসন পরিষেবার ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।

  • উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ২০ শয্যার কেন্দ্র তৈরি হয়েছে।
  • মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।
  • রোগীদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
  • উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ও সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জন্য এই পরিষেবা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

মাদকাসক্তি মোকাবিলায় চিকিৎসার পরিকাঠামো

মাদকাসক্তির সমস্যা অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা এবং নিয়মিত মানসিক সহায়তার প্রয়োজন তৈরি করে। শুধু মাদক গ্রহণ বন্ধ করলেই সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হয় না। রোগীর শারীরিক অবস্থা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিক পরিবেশ বিবেচনা করে ধাপে ধাপে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন হতে পারে। নতুন কেন্দ্রটি সেই ধরনের পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট পরিকাঠামো তৈরি করবে।

উত্তরবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেও এই কেন্দ্রের গুরুত্ব রয়েছে। শিলিগুড়ি উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র হওয়ায় আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে রোগীদের চিকিৎসার জন্য এখানে আসার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ ও ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও মাদক নিয়ন্ত্রণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তরুণদের মাদকমুক্ত রাখতে সচেতনতার প্রয়োজন

মাদকাসক্তি প্রতিরোধে চিকিৎসার পাশাপাশি সচেতনতা, পরিবারভিত্তিক সহায়তা এবং সামাজিক উদ্যোগও প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, আসক্ত ব্যক্তিকে শুধু অপরাধী হিসেবে না দেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর চেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ডি-অ্যাডিকশন সেন্টার সেই পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে আরও সংগঠিত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে ২০ শয্যার এই কেন্দ্র চালু হওয়ায় মাদকাসক্তির চিকিৎসায় স্থানীয়ভাবে আরও একটি বিশেষায়িত পরিষেবা যুক্ত হল। চিকিৎসা, কাউন্সেলিং এবং পুনর্বাসন—এই তিনটি দিককে গুরুত্ব দিয়ে কেন্দ্রটি পরিচালিত হলে উত্তরবঙ্গের মাদকাসক্তি মোকাবিলার পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হতে পারে।